ভোটের ময়দানে নেমেই বড়সড় চমক । জয়ী হলে শিলিগুড়িকে পূর্ণাঙ্গ জেলা করার প্রতিশ্রুতি দিলেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব । শুধু প্রশাসনিক রদবদল নয়, তাঁর লক্ষ্য, একটি আধুনিক, বিশ্বমানের শহর গড়ে তোলা ।
নিজের অঙ্গীকারপত্র প্রকাশ করে গৌতম দেব জানান, শিলিগুড়ির সামগ্রিক উন্নয়নই তাঁর মূল লক্ষ্য । রাস্তা, নিকাশি, বাজার থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান, সবই রয়েছে তাঁর পরিকল্পনায় । পাশাপাশি পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ও সীমানা বাড়ানোর কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি ।
আরও পড়ুনঃ মানুষের পকেটে টান; ভারত এখন বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি!
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হল, শিলিগুড়িকে আলাদা জেলা করার অঙ্গীকার । দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবি তুলে আন্দোলন হয়েছে । কমিশনারেট গঠনের পর শহর সংলগ্ন চারটি ব্লক নিয়ে নতুন জেলা গঠনের দাবি আরও জোরালো হয় । বর্তমানে প্রশাসনিক কাজের জন্য কখনও দার্জিলিং, কখনও জলপাইগুড়ি ছুটতে হয় বাসিন্দাদের । সেই ভোগান্তি দূর করতেই এই উদ্যোগ বলে দাবি তৃণমূলের ।
এদিকে, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সাতটি নতুন জেলা তৈরির আশ্বাস ইতিমধ্যেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । সেই তালিকায় শিলিগুড়িকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠিয়েছেন গৌতম দেব, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিও পেয়েছে বলে দাবি ।
শুধু জেলা গঠনই নয়, শহরের উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি । পানীয় জলের সমস্যা মেটানো, সরকারি জমিতে বসবাসকারীদের পাট্টা প্রদান, কাওয়াখালিতে সব সরকারি দফতর নিয়ে গিয়ে ‘অফিস পাড়া’ তৈরি, এসবই রয়েছে তাঁর রূপরেখায় । এছাড়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে সবুজায়ন, বিধান মার্কেটের সংস্কার, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ১০০ কোটি টাকার ব্যয়ে ১০০ বেডের ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন ।
আরও পড়ুনঃ ক্যাগের রিপোর্টে বড় কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত! ৫৪,২৮২ কোটি টাকার হিসেব নেই মোদী সরকারের!
তবে শহরবাসীর কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির প্রতিশ্রুতি, যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান । গৌতম দেবের দাবি, এর জন্য ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে ব্লু-প্রিন্ট ।
গৌতম দেবের কথায়, “বিধায়ক হতে পারলেই এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করব । শিলিগুড়িকে আলাদা জেলা করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জোরালোভাবে আবেদন জানাব । আমার স্বপ্ন, এই শহরকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া, যাতে আগামী প্রজন্ম গর্ব করতে পারে ।” এখন দেখার, ভোটের আগে এই ‘ইস্তাহার‘ প্রতিশ্রুতি, ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে ।



