ভোট লুট করতে এলে আমার লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে ৷ মন্তব্য শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবের ৷ ১৫ বছরের অত্যাচারের পর হারের ভয় পেয়েই ভোট লুটের কথা বলছেন ৷ কটাক্ষ বিজেপির শঙ্কর ঘোষের ৷ এভাবেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে উঠল শিলিগুড়ির শেষ দিনের প্রচার ৷
আরও পড়ুনঃ ৬ মে পর্যন্ত চরম ভোগান্তি যাত্রীদের! বাস নিয়ে নিচ্ছে কমিশন!
প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল শিলিগুড়ি-সহ ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট হবে ৷ নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরুর পর থেকেই শিলিগুড়ির কেন্দ্রের লড়াই অন্য মাত্রা পেয়েছে ৷ তাঁর মূল কারণ, তৃণমূল ও বিজেপির দুই প্রার্থী ৷ গত বিধানসভা নির্বাচনে নিজের এককালের গুরু সিপিএমের বড় নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যকে হারিয়ে রাজনীতিতে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন শঙ্কর ৷ গত পাঁচ বছর বিধানসভায় বিজেপির মুখ্যসচেতকের ভূমিকা পালন করেছে দক্ষ হাতে ৷ এবারও তাঁর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিজেপি ৷

অন্যদিকে, গৌতম দেব তৃণমূলের উত্তরবঙ্গে সবচেয়ে বিশ্বস্ত মুখের অন্যতম ৷ গত বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে পরাজিত হয়ে এবার লড়ছেন শিলিগুড়ি থেকে ৷ গত পাঁচ বছর শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র হিসেবে কাজের খতিয়ানকে হাতিয়ার করে ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন মমতার অতিঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেতা ৷
ভোট প্রচারের শেষ দিন বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ৷ তাঁর দাবি, বহিরাগতদের নিয়ে এসে ভোট লুট করার চক্রান্ত করেছে বিজেপি ৷ তার জন্য শিলিগুড়ির বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে তারা এসে গিয়েছে ৷ এসবই ভোট লুট করার ছক ৷ তবে তিনিও যে সহজে হাল ছেড়ে দেবেন না তা বুঝিয়ে দিয়েছেন ৷ কোনও বহিরাগত যাতে ভোট লুট করতে না পারেন তার জন্য তিনি এবং শিলিগুড়ি শহরের 50 হাজার নাগরিক বুথ রক্ষা করবেন ৷ তৃণমূল প্রার্থীর মুখে ৫০ হাজার নাগরিকের ভোট রক্ষার কথা শুনে কটাক্ষ করতে দেরি করেননি শঙ্কর ৷ ‘গৌতমদা’কে তাঁর পরামর্শ এই ৫০ হাজার কর্মী-সমর্থককে দেখে রাখবেন ! বিজেপি প্রার্থী বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন এখন তাঁরা ভোটে হারার হতাশা থেকে এই ধরনের কথা বলছেন ৷”

শাসক শিবিরের অভিযোগ, ট্রেনে-বাসে করে অন্য রাজ্য থেকে শিলিগুড়িতে পরিযায়ী শ্রমিকের নামে বহিরাগত দুষ্কৃতিদের রিগিং, ভোট লুঠের জন্য ঢোকানো হয়েছে। দুষ্কৃতীরা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়ি ভাড়া করেছে ৷ তাদের আশ্রয় দিয়েছে বিজেপি । ভোটের দিন ওইসব দুষ্কৃতীরা অস্ত্র নিয়ে ভোট লুঠ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রার্থী গৌতমের।
গত সপ্তাহ থেকে বহিরাগতদের আনাগোনা শুরু হয়েছে অভিযোগ শহরবাসীর একাংশের। এমনকী সোমবার একসঙ্গে পাঁচটি ছিনতাইয়ের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশনের পাশাপাশি বাসে করে বিহার ও উত্তরপ্রদেশ তো বটেই এমনকী অসম থেকে বহিরাগতরা শহরে প্রবেশ করছে । শহরের আশেপাশে থাকা বিভিন্ন হোটেলে ভাড়া নিয়ে থাকছে। ভোটের দিন শহরে অশান্তি পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসকদল।
আরও পড়ুনঃ ভোট দিতে রাজ্যে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিক-ভোটাররা, ট্রেন-বাসের ব্যবস্থা করেছে বিজেপি
এই বিষয়ে গৌতম দেব কড়া হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, “বাইরে থেকে লোক ঢোকানো হয়েছে। কিন্তু আমি বলছি, ভোটের দিন যদি কেউ অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করে তাহলে বিজেপিকে আমার লাশ, আমার রক্তের উপর দিয়ে যেতে হবে। পঞ্চাশ হাজার লোক নিয়ে রাস্তায় থাকব। ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করুক। এই নির্বাচন কমিশন কোন কাজ করে না। আমি সামনে থেকে এসব প্রতিহত করব।”

পাল্টা শঙ্কর বলেন, “এসব দেখে বোঝা যাচ্ছে গৌতমবাবুর বুঝতে পারছেন তাঁদের পরাজয় নিশ্চিত ৷ এভাবে এখন থেকে সত্যিটা স্বীকার করে নিয়েছেন বলে তাঁকে ধন্যবাদ জানাই ৷ তৃণমূল সন্ত্রাস আর দুষ্কৃতীদের আখড়া। এসব করে কিছু হবে না। আর পঞ্চাশ হাজার লোক থাকবে-এই ভাবনাটাই হাস্যকর। তৃণমূলের আসন সংখ্যা যাতে পঞ্চাশের কম না হয়ে যায় সেটা ওরা নিশ্চিত করুক ৷”



