বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রচার চলাকালীন হাওড়ায় বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার একটি সংবেদনশীল এলাকায়, যেখানে বিজেপি কর্মীরা রোডশো বা প্রচার কর্মসূচি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে তৃণমূল কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দিতে শুরু করেন। দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে হাতাহাতি ও পাথর ছোড়াছুড়িতে রূপ নেয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই দলের কর্মীরা একে অপরের দিকে ইট-পাথর ছুড়তে থাকেন এবং কয়েকটি গাড়িতেও ক্ষতি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। লাঠিচার্জের ফলে কয়েকজন কর্মী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।এই সংঘর্ষের পর হাওড়ার রাস্তায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দোকানপাট অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা ভোটের সময় এমন অশান্তি দেখতে চাই না।
দুই দলের কর্মীরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করছে, কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। পুলিশকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।” অনেকে মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তৃণমূল কর্মীরা তাদের শান্তিপূর্ণ প্রচারে বাধা দিয়েছে এবং হামলা চালিয়েছে।
দলের এক নেতা বলেন, “আমরা শুধু জনগণের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের লোকেরা সহ্য করতে পারেনি। পুলিশের লাঠিচার্জে আমাদের কর্মীরা আহত হয়েছেন, কিন্তু আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালিয়ে যাব।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন যে, বিজেপি কর্মীরাই প্রথমে উস্কানি দিয়েছে এবং তাদের কর্মীদের উপর হামলা করেছে। তাঁরা দাবি করেন, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।



