সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাননি তিনি। অভিমান হয়েছিল। পরে কোচবিহারে নির্বাচনী প্রচারে এসে তাঁকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে সোজা রাসমেলা মাঠের জনসভায় নিয়ে গিয়েছিলেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দীর্ঘদিন পর মঙ্গলবার পৌঁছে গেলেন কোচবিহার পৌরসভায়। যে পৌরসভার একসময় চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এদিন পৌরসভায় আসা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৫টার ডেডলাইন অতিক্রান্ত; আজ হাজিরা না দিলেই অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
চলতি বছরের শুরুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কোচবিহার পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন রবীন্দ্রনাথ। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর অভিষেককে নিশানা করেন তিনি। স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, অভিষেক ও আইপ্যাকের জন্যই ভোটে পর্যুদস্ত হতে হয়েছে তৃণমূলকে।
এখন অভিষেকের বিরুদ্ধে তৃণমূলের একের পর এক নেতা মুখ খুলছেন। আবার বিধানসভা ও লোকসভাতেও তৃণমূলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এদিন কোচবিহার পৌরসভায় দেখা গেল প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথকে। পৌরসভায় এক বৈঠকে উপস্থিত হলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান।
এদিন পৌরসভায় প্রবেশ করতেই কর্মীদের একাংশকে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। কর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। ‘রবীন্দ্রনাথ ঘোষ স্বাগতম, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন। কর্মীদের স্লোগান দেওয়া নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “ওরা আমার সন্তানতুল্য। দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে মাঠে-ঘাটে কাজ করেছি। তাই আমাকে দেখে ওরা উৎসাহিত হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ মমতার বাড়ির উঠোনে সিআইডি; কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটে সিআইডি-র ‘ডবল স্ট্রাইক’!
এদিনের বৈঠকে রবীন্দ্রনাথের অংশগ্রহণের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি পৌরসভার তরফে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই উপস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর রবীন্দ্রনাথের পৌরসভায় উপস্থিতি ঘিরে জেলা ও পৌর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও নতুন বার্তা বহন করছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।


