পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটযুদ্ধ যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তেজনা বাড়ছে। ডায়মন্ড হারবারের একটি ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, বাইকে চড়ে একদল লোক স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয় দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ জারি হল ১৬৩ ধারা! ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থমথমে হাওড়া
একক বেঞ্চের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে কমিশন এখন ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছে, যাতে বাইক-বাহিত ভয়ভীতি ও দুর্ব্যবহার রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে একাধিক বাইকে চড়ে কয়েকজন যুবক সরু গলি দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা জোরে স্লোগান দিচ্ছেন, যা অনেকের কাছে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা বলে মনে হয়েছে।
ভিডিয়োতে “ভয়ংকর খেলা হবে” জাতীয় কথাবার্তা শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ফুটেজ দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভোটাররা বলছেন, এমন ঘটনা তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে।নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। রবিবারই কমিশন ডায়মন্ড হারবার থানায় এফআইআর দায়ের করেছে। অপরাধমূলক ভয় দেখানো, শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে আমরা কোনো আপস করব না।” ইতিমধ্যে স্থানীয় পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। পাশাপাশি, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পাঁচজন পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে নিরপেক্ষতা বজায় না রাখার অভিযোগে।
আরও পড়ুনঃ ছাপ্পা দিলেই সোজা শ্রীঘর! ভুয়ো ভোট রুখতে কমিশনের কড়া দাওয়াই
এর আগে নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাইক র্যালি ও রাতের বেলা বাইক চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যাতে কোনো ধরনের ভয় দেখানো বা অস্থিরতা না ছড়ায়। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ (বিচারপতি কৃষ্ণ রাও) এই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করে বলেন, “স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নামে বাইক চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না।” আদালত জানায়, ব্যক্তিগত বাইক চলাচলে ব্ল্যাঙ্কেট ব্যান অযৌক্তিক। তবে বাইক র্যালি নিষিদ্ধ রাখা যেতে পারে। পিলিয়ন রাইডিংয়েও কিছু শর্ত আরোপ করা হয়, যেমন স্কুল, মেডিকেল ইমার্জেন্সি বা পরিবারের কাজ ছাড়া দুজনের বেশি চড়া যাবে না
এই একক বেঞ্চের আদেশের বিরুদ্ধেই নির্বাচন কমিশন এখন ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছে। কমিশনের যুক্তি, ডায়মন্ড হারবারের ভিডিয়ো প্রমাণ করে যে বাইক-বাহিত গ্রুপগুলি এখনও ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই শুধু র্যালি নয়, সাধারণ বাইক চলাচলেও কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জরুরি।


