তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অস্থিরতা অবশেষে চরম আকার ধারণ করল। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঠিক পরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দাগলেন প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায়। সামাজিক মাধ্যমে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
আরজি কর কাণ্ড ও ‘ফিশ ফ্রাই’ বিতর্কের নতুন মোড়:
সুখেন্দুবাবু তাঁর পোস্টে আরজি কর হাসপাতালের সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি উস্কে দিয়েছেন। তিনি সরাসরি দমদমের সাংসদ সৌগত রায়ের নাম না করে তাঁকে ‘লম্পট সাংসদ’ বলে অভিহিত করেছেন। সুখেন্দুর অভিযোগ, ঘটনার রাতে যখন অভয়ার অসহায় বাবা-মা বিচারের আশায় কাতর হয়ে প্রার্থনা করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই হাসপাতালের প্রিন্সিপালের ঘরে বসে ওই সাংসদ পারিষদদের সঙ্গে আয়েশ করে ‘ফিশ ফ্রাই’ খাচ্ছিলেন। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক আঙিনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ:
শুধু সৌগত রায় নন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ছাড়েননি সুখেন্দুবাবু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ডাকাত রানি’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অকাল কুষ্মাণ্ড ভাইপো অরণ্যদেব’ বলে চরম বিদ্রূপ করেছেন তিনি। সুখেন্দুর মতে, গত কয়েক বছরে বাংলায় দুর্নীতি, তোলাবাজি, নারী নির্যাতন এবং স্বজনপোষণ যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তা সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি তৈরি করেছে। সেই জনরোষেই তৃণমূল কংগ্রেসের এই করুণ পরিণতি বলে তিনি দাবি করেন।
আরও পড়ুনঃ ডিমের কত ‘ডিমান্ড’! ডিম পচানোর হিড়িকে, দাম সাড়ে ৭ টাকা
অস্তিত্বের সংকটে তৃণমূল:
সুখেন্দুবাবু জানিয়েছেন, বর্তমানে তৃণমূল নেতৃত্ব অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। ভোটের বিপর্যয়ের পর এখন রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য তারা মরিয়া হয়ে দিল্লির দরজায় কড়া নাড়ছে। তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কবিতার পঙ্ক্তি উল্লেখ করে লিখেছেন, “একে একে শুকাইছে ফুল, নিভিছে দেউটি…” অর্থাৎ তৃণমূলের আলোর দিন শেষ হয়ে আসছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুখেন্দু শেখর রায়ের এই বিস্ফোরক পোস্ট কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং তৃণমূলের ভেতরে যে ফাটল ধরেছে, তারই এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এখন দেখার বিষয়, এই আক্রমণের পাল্টা জবাব তৃণমূল শিবির কীভাবে দেয়।


