বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই এখন রাজ্য রাজনীতির নজর স্ট্রংরুমের দিকে। গণনার আগে ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় সরব হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই আশঙ্কাকে সরাসরি ‘নাটক’ এবং ‘ভোট লুটেরাদের মরা কান্না’ বলে তীব্র কটাক্ষ করলেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী।
আরও পড়ুনঃ স্ট্রংরুমে মমতার অবস্থানের পর সতর্ক শুভেন্দু! বৈঠকে ডাকলেন কর্মীদের
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, গণনার আগে স্ট্রংরুমে ইভিএম নিয়ে কারচুপি হতে পারে। দলের প্রার্থীদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, দিন-রাত এক করে স্ট্রংরুম পাহারা দিতে হবে। গত রাতে নিজে কলকাতার শেখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বেশ কয়েক ঘণ্টা বসে থেকে নিরাপত্তার তদারকি করেন তিনি। দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে এবং নজরদারি নিশ্চিত করতেই তাঁর এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই তৎপরতাকে পাল্টা আক্রমণ শানাতে ছাড়েননি প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “স্ট্রংরুমের ভেতরটা সবসময় সিসিটিভিতে মনিটরিং হয়। সেখানে কী চলছে তা সিসিটিভি দেখলেই বোঝা যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন এই নাটক করছেন জানি না। এই ধরনের নাটক কেবল ওনাকেই মানায়।”
মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে অধীরবাবু আরও অভিযোগ করেন, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সরকারি আধিকারিকদের মদতে বিডিও অফিসে ব্যালট লুট হয়েছে।
তাঁর দাবি, তৃণমূলের ব্যালটে ছাপ মেরে বক্সে ঢোকানোর সংস্কৃতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই শুরু হয়েছে। অধীর চৌধুরীর কথায়, “বাংলার মানুষকে বলতে চাই, এই মহিলা বাংলায় ভোট লুঠের সবচেয়ে বড় নেত্রী। ওনার নেতৃত্বে হওয়া ভোটে মানুষ মনোনয়ন দিতে পারে না, ভোট দেওয়ার হিম্মত পায় না, এমনকি মানুষ খুন হয়।”
অধীর চৌধুরীর দাবি, এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ির কারণে তৃণমূলের ‘ভোট লুটের পথ’ অবরুদ্ধ হতে পারে বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী আগাম কারচুপির অজুহাত দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, “বিডিও অফিসের মধ্যে যারা ভোট লুট করে, আজ ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে তাদের এই মরা কান্না বা কুমিরের কান্না কেউ শুনছে না।”


