বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজারহাটে ‘আমিষ পার্টি’র আমন্ত্রণ জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী৷ শুক্রবার রাতে ভোট প্রচারে এসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজারহাট গোপালপুরে এক জনসভায় উপস্থিত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে রসিকতা করে বলেছেন, “দিদিকে বলব, রাজারহাটে জিতলে আমরা একটা পার্টি দেব। মেনু হবে নন-ভেজিটেরিয়ান। মাংস রাজারহাট থেকে আসবে, আর মাছ আমি অসম থেকে পাঠিয়ে দেব।”
হিমন্তের বক্তব্য
জনসভায় হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “রাজারহাটে জয়ের পর আমরা একটা বড় পার্টি করব। মেনুতে নিরামিষ থাকবে না। মাংস স্থানীয়ভাবে রাজারহাট থেকে আসবে এবং মাছ অসম থেকে পাঠাব।” তাঁর এই মন্তব্য জনসভায় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাসির রোল তুলেছে।
হিমন্ত আরও বলেন, বিজেপি রাজারহাট-গোপালপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে জয়ী হলে এ ধরনের উৎসবমুখর অনুষ্ঠান করা হবে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি’ সম্বোধন করে হালকা মেজাজে কথা বললেও, বক্তব্যের মধ্যে বিজেপির জয়ের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট ছিল।
আরও পড়ুনঃ PMর গঙ্গাসফর ইস্যুতে দিদি বললেন,‘যমুনায় ডুব দিয়ে আসুন’
রাজারহাট গোপালপুরের গুরুত্ব
রাজারহাট গোপালপুর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি হাব গড়ে ওঠায় এটি শহুরে ও আধুনিক ভোটারদের প্রভাবিত করে। বিজেপি এই কেন্দ্রে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে লড়াই করছে। হিমন্তের উপস্থিতি এই কেন্দ্রে দলের প্রচারকে আরও জোরদার করেছে।
বিজেপির প্রচার কৌশল
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে এসে বিজেপির হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ সরাসরি ও রসিকতাময় ভঙ্গিতে কথা বলে জনসভাকে প্রাণবন্ত করে তুলছেন। তাঁর বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি বিজেপি জিতলে রাজ্যে কেমন উন্নয়ন হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ প্রথম দফায় সেঞ্চুরি পার, শাহের মন্তব্যের জবাব অভিষেকের
বিজেপি কর্মীরা হিমন্তের এই বক্তব্যে উৎসাহিত। অনেকে বলছেন, এই ধরনের হালকা মেজাজের বক্তব্য জনগণের কাছে দলের বার্তা আরও সহজে পৌঁছে দেয়।
রাজারহাট গোপালপুরসহ উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন কেন্দ্রে বিজেপি এবার জোরাল লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে। হিমন্তের সফর দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে।
ভোট যত এগিয়ে আসছে, রাজ্যের রাজনীতিতে এ ধরনের জনসভা ও বক্তব্যের তীব্রতা বাড়ছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই সফর বিজেপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচারমাধ্যম হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই রসিকতাময় আক্রমণ রাজ্যের ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে।



