বাংলার রাজনৈতিক মহল এই মুহূর্তে যথেষ্ট উত্তপ্ত। এর মধ্যেই ফের চাঞ্চল্য শহরের রাজনৈতিক মহলে। বাংলাপক্ষের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে শুরু হল চোর চোর স্লোগান। তৃণমূলের দালাল বলেও অনেকে কটাক্ষ করলেন গর্গকে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ যারা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বহিরাগত বলে কটাক্ষ করেছিল, আজ তাদের কাছেই আশ্রয় চেয়ে মান বাঁচাতে হল গর্গকে।
আরও পড়ুনঃ পশ্চিমবঙ্গের Exit Poll-এ আতঙ্কিত বাংলাদেশ! কি হল?
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে গর্গর একাধিক রাজনৈতিক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। যেখানে বিজেপি এবং বিজেপির সর্বভারতীয় নেতাদের কটাক্ষ করেছেন তিনি। বাংলায় বসবাসকারী অবাঙালিরাও ছাড় পাইনি বাংলাপক্ষের আক্রমণ থেকে বাঙালির অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে দাবি করে তাদেরও বহিরাগত বলে দাগিয়ে দিয়েছে বাংলাপক্ষ। এই আবহেই বিজেপি নেতা এবং বন্দর এলাকার প্রার্থী রাকেশ সিং এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন।

তাঁর দাবি, যিনি নিজেকে “বাংলার বাঘ” বলে তুলে ধরেন, তিনিই জনতার প্রশ্নের মুখে পড়ে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, যাঁরা “বহিরাগত” ইস্যু তুলে রাজনীতি করেন, তাঁদেরই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই “বাঙালির অধিকার” এবং “বহিরাগত” ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনীতি করে আসছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে, বাংলায় বসবাসকারী অবাঙালিদের জন্য বাঙালিদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই বক্তব্য ঘিরে একাধিকবার বিতর্কও তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাপক্ষের সমর্থকদের দাবি, পুরো ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে আক্রমণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, নির্বাচনের মুখে বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখতেই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ঘুম ছুটেছে তৃণমূলের! বুথের লড়াই আদালতের অলিন্দে
এই ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে এভাবে কাউকে অপমান করা বা হেনস্থা করা উচিত নয়। আবার অন্য অংশের মানুষের মতে, জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ঘটনাকে দেখা উচিত।


