কেরানিরা এখানে বসে কাজ করতেন, তাই নাম হল ‘মহাকরণ’। কেরানিদের বলা হত ‘রাইটার’, তাই ব্রিটিশদের তৈরি সেই ভবনের নাম হয়ে যায় রাইটারস বিল্ডিং। ব্রিটিশদের বিদায়ের পর অনেক ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছে কলকাতার এই ভবন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর লালবাড়ি থেকে প্রশাসন সরেছে নীলবাড়িতে। এবার কি ফের আলো জ্বলে উঠবে ঐতিহ্যবাহী সেই রাইটার্সে?
আরও পড়ুনঃ ‘আমি ইস্তফা দেব না’ সাফ জানিয়ে দিলেন মমতা
২০০-র বেশি আসন পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি। সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন শপথ গ্রহণ করতে পারেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যেই রাইটার্স বিল্ডিং পরিদর্শনে গেল পূর্ত দফতরের একটি টিম।
মহাকরণের পরিস্থিতি, সুরক্ষা খতিয়ে দেখতেই এই পরিদর্শন বলে জানা যাচ্ছে। সব ঠিক থাকলে নবান্ন থেকে দফতর সরানো হতে পারে রাইটার্সে। মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রীর দফতর হতে পারে রাইটার্সে।
আরও পড়ুনঃ বদলাচ্ছে বাংলা, বদলে গেল ‘হীরক রানী’র হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট
তবে মহাকরণের যা অবস্থা, তাতে এখনই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ভবনের মেরামতির কাজ সেরে তবেই সরকারি কাজ শুরু করা সম্ভব। আর সেটা করতে বছর ঘুরে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে আপাতত কোথাও কাজ শুরু করতে হবে। জানা যাচ্ছে, লালদিঘি কাছে অর্থাৎ যেখানে রাইটার্স ভবন অবস্থিত, সেখানেই একটি ভবন নেওয়া হচ্ছে সচিবালয় তৈরি করার জন্য। সেখানেই আপাতত কাজ শুরু করতে পারে নতুন সরকার। নবান্নে না বসার সম্ভাবনা বেশি।
মমতা ক্ষমতায় আসার পর মহাকরণে কাজ শুরু করলেও পরে ছেড়ে চলে যান নবান্নে। বলে গিয়েছিলেন, ছ’মাসের মধ্যেই ফিরে আসছেন। ২০১৩-এর ৫ অক্টোবর ছিল সেটা। তারপরে কেটে গিয়েছে এক দশকের বেশি সময়। গত কয়েক বছর ধরেই চলছে সংস্কারের কাজ। কিন্তু কাজ সেভাবে এগোয়নি। এবার কি ফের সেই ভবনের ফাঁকা করিডরে শোনা যাবে পায়ের শব্দ!


