Wednesday, 6 May, 2026
6 May
HomeকলকাতাAbhishek Banerjee: “বুমেরাং!” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি আজ তাঁর নিজের দিকেই ফিরছে;...

Abhishek Banerjee: “বুমেরাং!” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি আজ তাঁর নিজের দিকেই ফিরছে; বাঙালি নিজের ক্ষমতা বুঝে নিচ্ছে!

বাঙালি নিজের ক্ষমতা বুঝে নিচ্ছে!

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

শুরু: ভয় দিয়ে যে রাজনীতি তৈরি হয়েছিল

এলাকায় এলাকায় যেভাবে সংগঠন চালানো হচ্ছিল—

লোক জড়ো করা,

পুকুর থেকে জল তুলে এনে প্রস্তুতি রাখা,

ওয়ার্কারদের ওপর আক্রমণ,

পার্টি অফিস ঘিরে নিয়ন্ত্রণ—

এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না।

এটা ছিল একটা সংগঠিত কাঠামো,

যার লক্ষ্য ছিল নিয়ন্ত্রণ আর ভয়।

এই সংস্কৃতির কেন্দ্রেই ছিলেন

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সংগঠন।

দখল করা জায়গাগুলো আজ প্রতীকের মতো ভাঙছে

কলেজের ইউনিয়ন রুম—

যেগুলো জোর করে দখল করা হয়েছিল

এলাকার পার্টি অফিস—

যেগুলো শক্তির প্রতীক বানানো হয়েছিল

আজ সেই জায়গাগুলো—

ভাঙা হচ্ছে

আগুন লাগছে

বুলডোজার চলছে

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস—

যেটা দখল করে বানানো হয়েছিল—

আজ সেটাই ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

এটা শুধু একটা বিল্ডিং ভাঙা না—

এটা একটা রাজনৈতিক মডেলের ভাঙন।

আরও পড়ুনঃ ইস্তফা দিতে চান না ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মমতা! বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর

 প্রচারের ভাষা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন—

“৪ তারিখ, ১২টার পর দেখে নেব”

“কে বাঁচাবে, দেখবো”

“দিল্লির কার ক্ষমতা আছে দেখা যাবে”

এই কথাগুলো কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্য না।

এগুলো সরাসরি হুমকি ছিল।

মানুষ শুনেছিল, মনে রেখেছিল।

ভুল হিসাব: ফল উল্টে গেলে কী হবে?

সবচেয়ে বড় ভুলটা এখানেই—

ধরে নেওয়া হয়েছিল—

ফল একই থাকবে

ক্ষমতা একই থাকবে

কিন্তু ভাবা হয়নি—

যদি ফল উল্টে যায়?

তাহলে এই হুমকিগুলোই ফিরে আসবে।

 আজকের বাস্তবতা: উল্টো দিকে ঘোরা চাকা

আজ দেখা যাচ্ছে—

যারা একসময় করত—

মারধর

দখল

চাপ

আজ তারাই প্রশ্ন করছে—

“এটা কেন হচ্ছে? রাজনৈতক প্রতিহিংসা কেনো”

এই প্রশ্নটাই দেখাচ্ছে—

পরিস্থিতি পুরো ঘুরে গেছে।

২০২১-এর পর যা হয়েছিল, সেটা কি ভুলে যাওয়া যায়?

২০২১ সালের ভোটের পর—

হত্যা হয়েছে

হামলা হয়েছে

এলাকা দখল হয়েছে

তখন?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল নেতৃত্ব—

অস্বীকার করেছে

চুপ থেকেছে

আজ যখন একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—

তখন বলা হচ্ছে—

“অশান্তি হচ্ছে”

এই দ্বৈত অবস্থানটাই মানুষের কাছে ধরা পড়ছে।

সংগঠিত হিংসার সংস্কৃতি

ভোটের সময়—

লোক জড়ো করা

লাঠি নিয়ে দাঁড়ানো

এক জায়গায় ভিড় তৈরি করা

এইগুলো spontaneous না।

এগুলো একটা তৈরি করা culture

এবং সেই culture এখন নিজের দিকেই ফিরে আসছে।

“ডিজে বাজাবো”—আজ সেই কথার প্রতিধ্বনি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন—

“ডিজে বাজাবো”

আজ—

অন্য পক্ষ ডিজে বাজাচ্ছে

উৎসব করছে

এই দৃশ্যটাই দেখাচ্ছে—

রাজনীতির ভাষা কীভাবে ফিরে আসে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি ইস্তফা দেব না’ সাফ জানিয়ে দিলেন মমতা

বিজেপির অবস্থান বনাম মাঠের বাস্তবতা

নরেন্দ্র মোদি বারবার বলছেন

সংযত থাকতে

নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করতে

কিন্তু মাঠে যা হচ্ছে—

তা হলো জমে থাকা প্রতিক্রিয়া।

এটা কোনো নির্দেশে হচ্ছে না—

এটা accumulated anger-এর ফল।

মানুষকে বারবার ভয় দেখানো যায় না।

একসময় সেই ভয় রাগে পরিণত হয়।

আর সুযোগ পেলেই—সেই রাগ বেরিয়ে আসে।

অভিষেক ব্যানার্জি: হুঁশিয়ারি থেকে অসহায়তা

যে ব্যক্তি কয়েকদিন আগেও—

হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন

চ্যালেঞ্জ করছিলেন

আজ—

কষ্টের কথা বলছেন

অভিযোগ করছেন

কান্নাকাটি করে ফেলছেন

“ভেজা বেড়াল”tone-এর সম্পূর্ণ পরিবর্তন

আগে ছিল—

আক্রমণাত্মক ভাষা

এখন—

নরম, ডিফেন্সিভ বক্তব্য

এই পরিবর্তনটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক irony

শেষ বাস্তবতা: বুমেরাং

পুরো ঘটনাটা এক লাইনে—

যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল

যে সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল

সেটাই আজ ফিরে এসেছে।

এটা শুধু রাজনৈতিক সংঘর্ষ না— এটা political behaviour-এর ফলাফল।

যেভাবে রাজনীতি করা হয়— ফলও সেভাবেই ফিরে আসে।

শেষ কথাঃ 

এই মুহূর্তে ছবিটা খুব পরিষ্কার— ভয় দিয়ে রাজনীতি স্থায়ী হয় না

ক্ষমতা বদলালে—

সবকিছু বদলে যায়

আর এবার—

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারিই

তাঁর নিজের দিকেই ফিরে এসেছে।

বাঙালি নিজের ক্ষমতা বুঝে নিচ্ছে!

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন