সোমেন দত্ত, কোচবিহারঃ
বাংলার মাটিতে ‘কমল’ ফুটতেই অ্যাম্বুলেন্সে চেপে পালালেন ‘কমল-পুত্র’ তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা উদয়ন গুহ । বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির মধ্যে দিনহাটা থেকে পরাজিত প্রার্থী উদয়ন গুহের পালিয়ে যাওয়ার খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেতা কমল গুহের ছেলে উদয়ন গুহ দীর্ঘদিন ধরে দিনহাটার রাজনীতিতে প্রভাবশালী নাম ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে দুর্মুখ বলে কুখ্যাত ছিলেন উদয়ন।
আরও পড়ুনঃ হিংসা নয় সংবিধান মেনেই বাংলা ছাড়া করা হবে তৃণমূলকে
কিন্তু এবারের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর তিনি পরিবারসহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোররাতে এলাকা ছাড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোররাতে উদয়ন গুহ তাঁর স্ত্রী, ছেলে সায়ন্তন গুহসহ গোটা পরিবারকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে চেপে দিনহাটা ছেড়ে চলে যান। তল্পিতল্পা গুটিয়ে এই পালানোর ঘটনা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। যে নেতা একসময় এলাকায় দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন, যাঁর কথায় অনেকের ভাগ্য নির্ধারিত হতো, সেই নেতাই এখন নিরাপত্তার অজুহাতে অ্যাম্বুলেন্স বেছে নিলেন এমনটাই স্থানীয়দের বক্তব্য।
নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অজয় রায় এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এতদিন যাদের কুটিল কথা বলতেন, তাদেরকেই আজ কাজে লাগাতে হল। দিনহাটার মানুষ অবশেষে শান্তি পেয়েছে। বহু বছর ধরে এলাকায় যে ভয়ের পরিবেশ ছিল, তা কেটে যাবে।” অজয় রায় আরও জানান, দিনহাটার সাধারণ মানুষ এখন নতুন করে শ্বাস নিতে পারছে। উন্নয়নের কাজ এবার সত্যিকারের অর্থে শুরু হবে।দিনহাটার বাজার এলাকার এক দোকানদার নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, “উদয়নবাবু অনেকদিন এখানে ছিলেন।
কিন্তু শেষ কয়েক বছরে এলাকায় অস্থিরতা বেড়েছিল। ভোটের পর যদি সত্যিই তিনি পালিয়ে যান, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে মানুষের মন কোনদিকে ছিল। আমরা শান্তি চাই, কোনও ত্রাস চাই না।” অন্যদিকে তৃণমূলের কয়েকজন স্থানীয় কর্মী অবশ্য এই খবরকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, উদয়ন গুহ হয়তো সাময়িকভাবে অন্যত্র গিয়েছেন নিরাপত্তার কারণে।
তবে তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় এবং বাড়িতে কাউকে না পাওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে।উদয়ন গুহ দিনহাটায় একসময় প্রায় অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরও তিনি নিজের প্রভাব বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিজেপির অজয় রায়ের কাছে ১৭ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, এই পরাজয় শুধু একটি আসনের নয়, দিনহাটার রাজনৈতিক সমীকরণেরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।


