‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগান তুলে বাংলার মসনদে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই কথা মানা হয়নি। ‘বদলা’ নিতে নিতে বহু জায়গায় সিপিএমকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকরা। এই আবহে বারুইপুরে সিপিএমের কার্যালয় বন্ধ ছিল দীর্ঘ ১৩ বছর। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরপরই সেই পার্টি অফিস খুলল। যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক হিংসা দেখা গিয়েছে, সেখানে সিপিএম নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অক্সিজেন খুঁজে পাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল হারতেই ‘খারাপ সময়’ ঘনিয়ে এল I-PAC-র
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৩ সালে সিপিএমের এই কার্যালয়টি দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর ১৩ বছর অফিসটি দখল করে রেখেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। ২০২৬ সালে আরও এক দফার পালাবদলের সাক্ষী থাকল রাজ্য। এই আবহে মঙ্গলবার রাতে পুরনো পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করেছে সিপিএম।
এই প্রসঙ্গে বারুইপুর পশ্চিমের সিপিএম প্রার্থী লায়েগ আলি বলেন, ‘আমরা দখলের রাজনীতি করি না। এটা আমাদেরই পুরনো পার্টি অফিস। তৃণমূল জোর করে দখল করেছিল। আমরা শুধু সেটা ফিরিয়ে নিয়েছি।’ তিনি আরও জানান, পার্টি অফিসে তৃণমূলের যে পতাকা বা কাগজপত্র ছিল, তা আলাদা করে গুছিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে, কিছু ফেলে দেওয়া হয়নি। তৃণমূল নেতাদের সেগুলি নিয়ে যে বলা হয়েছে। কিন্তু সেই কাগজ বা পতাকা নিতে কেউ আসেনি বলে দাবি করেন লায়েগ আলি।
আরও পড়ুনঃ হিংসা নয় সংবিধান মেনেই বাংলা ছাড়া করা হবে তৃণমূলকে
এদিকে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়হায় তৃণমূল অফিস দখলের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বারুইপুর, সোনারপুরেও সেই অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে ভাঙা হল লেনিনের মূর্তি। এই ঘটনার ভিডিয়ো এবং ছবি ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যায়, মূর্তিটির প্রথমে মুখের অংশ ভাঙা হয়। পরে গোটা মূর্তিই বেদি থেকে উপড়ে ফেলা হয়। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরাই লেনিনের এই মূর্তিটি ভেঙেছে। সেখানে নতুন করে শিবাজি বা গোপাল পাঁঠার মূর্তি বসানো হবে বলে দাবি করেছেন বিজেপি সমর্থকরা। এদিকে অভিযোগ করা হচ্ছে, ঘটনার সময় আশপাশে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুর রুখতে তৎপরতা দেখা যায়নি। এর আগের দিনই কলকাতার যাদবপুরের ৮বি এলাকায় লেনিনের মূর্তিতে গেরুয়া আবীর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই সবের মাঝেই বারুইপুরে নিজেদের দখল হয়ে যাওয়া অফিস পুনর্দখল করল সিপিএম।


