Saturday, 9 May, 2026
9 May
Homeআন্তর্জাতিক নিউজDonald Trump: অবশেষে ট্রাম্প জনসমক্ষে নিয়ে এলো ইউএফও এবং ভিনগ্রহের প্রাণীদের নথি!

Donald Trump: অবশেষে ট্রাম্প জনসমক্ষে নিয়ে এলো ইউএফও এবং ভিনগ্রহের প্রাণীদের নথি!

সামরিক রাডার থেকে প্রাপ্ত ডেটা অনুযায়ী, এই ইউএপি-গুলো এমন কিছু কৌশলে আকাশে ওড়ে যা বর্তমানের সবচেয়ে উন্নত ফাইটার জেটের পক্ষেও করা সম্ভব নয়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

গত কয়েক দশক ধরে যা ছিল কেবল কল্পবিজ্ঞান বা ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বিষয়, আজ তা সরকারি নথির অংশ। ২০২৬ সালের ৮ মে মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ (Department of War) তাদের আর্কাইভে থাকা কয়েক হাজার ‘আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা’ বা ইউএপি (UAP) সংক্রান্ত নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ এর আগে কখনও এত বিপুল পরিমাণ গোপন তথ্য এভাবে সাধারণ মানুষের নাগালে আসেনি। প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার বেশি রিপোর্ট এবং কয়েকশ ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ সম্বলিত এই উন্মোচনটি করা হয়েছে ‘পার্সিউ’ (PURSUE) প্রকল্পের অধীনে, যার মূল লক্ষ্য ছিল এই রহস্যময় আকাশচারী বস্তুগুলোর ব্যাপারে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

আমেরিকার এই পদক্ষেপে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, সরকার এখন আর এই বস্তুগুলোকে কেবল ‘উড়ন্ত চাকি’ বা ভিনগ্রহী যান হিসেবে দেখছে না। তারা একে দেখছে একটি বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উন্মুক্ত করা এই ফাইলে প্রায় ৫০০টিরও বেশি ভিডিও ক্লিপ রয়েছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর হলো ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেখা যাওয়া একটি বড় ব্রোঞ্জ রঙের ডিম্বাকৃতি বস্তুর ফুটেজ। এই বস্তুটি কোনো দৃশ্যমান ইঞ্জিন বা প্রপেলার ছাড়াই ঘণ্টায় কয়েক হাজার মাইল বেগে ছুটতে সক্ষম ছিল। এমনকি এটি বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি সমুদ্রের নিচে প্রবেশ করার সময়ও গতির কোনো পরিবর্তন করেনি। পদার্থবিজ্ঞানের বর্তমান সূত্র দিয়ে এই ধরণের গতিবিধি ব্যাখ্যা করা বিজ্ঞানীদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভাগ্নির হাত ধরেই শুরু হয় জন্মদিন পালন

এই নতুন নথিপত্রে কেবল আধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং ঐতিহাসিক ঘটনার ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। অ্যাপোলো ১৭ মিশনের সময় তোলা কিছু ছবি এবং ভিডিও এখন সবার সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে চাঁদের দিগন্তের ওপর দিয়ে কিছু উজ্জ্বল বিন্দু অদ্ভুত ছন্দে ঘোরাফেরা করছে। এছাড়া ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম আমেরিকার আকাশে একটি হেলিকপ্টার থেকে তোলা ইনফ্রারেড ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং উজ্জ্বল বস্তু কোনো শব্দ ছাড়াই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রতিটি ঘটনা এখন ‘war.gov/ufo’ নামক বিশেষ পোর্টালে গিয়ে যে কেউ দেখে নিতে পারে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই তথ্যগুলো প্রকাশের পেছনে কাজ করেছে একাধিক সংস্থা। নাসা (NASA), এফবিআই (FBI) এবং ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি একযোগে কাজ করে এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার সাজিয়েছে। অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস বা অ্যারো (AARO) জানিয়েছে যে, তারা প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১০০টি নতুন ইউএপি কেস নথিভুক্ত করছে। যদিও এর মধ্যে অনেকগুলোকে ড্রোন বা আবহাওয়া বেলুন হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, তবে প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ এমন ঘটনা রয়েছে যার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। এই অমীমাংসিত ঘটনাগুলোই এখন গবেষকদের প্রধান লক্ষ্য।

সাংবাদিকতা এবং তথ্যচিত্রের আদলে যদি এই পুরো বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করা যায়, তবে দেখা যাবে যে সরকার এখন সাধারণ মানুষকেও এই গবেষণার অংশ করে নিতে চাইছে। আগে যেখানে এই ধরণের বিষয় নিয়ে কথা বললে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ত, এখন সেখানে পাইলটদের উৎসাহিত করা হচ্ছে যে কোনো অস্বাভাবিক বস্তু দেখলে তা নির্ভয়ে রিপোর্ট করার জন্য। সামরিক রাডার থেকে প্রাপ্ত ডেটা অনুযায়ী, এই ইউএপি-গুলো এমন কিছু কৌশলে আকাশে ওড়ে যা বর্তমানের সবচেয়ে উন্নত ফাইটার জেটের পক্ষেও করা সম্ভব নয়। তারা খুব দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে পারে এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কার্যত তুচ্ছ করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ মেট্রোর কামরাতেই প্রি-ওয়েডিং, বসবে ছাদনাতলাও

২০২৬ সালের এই তথ্য প্রকাশের আরেকটি বিশেষ দিক হলো ‘ট্রান্স-মিডিয়াম’ যাতায়াত। অর্থাৎ একই বস্তু মহাকাশ, বাতাস এবং জলের নিচে সমান দক্ষতায় চলতে পারে। এই প্রযুক্তি যদি মানুষের আয়ত্তে আসত, তবে পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার সময় কয়েক মাস থেকে কমে মাত্র কয়েক দিনে নেমে আসত। পেন্টাগনের এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বস্তুগুলো কখনও কোনো বিরূপ আচরণ বা আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়নি, তবে তাদের উপস্থিতি মার্কিন আকাশসীমার নিরাপত্তার জন্য একটি বড় প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এখন এই ডেটা ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন। পেন্টাগন সরাসরি আহ্বান জানিয়েছে যাতে স্বাধীন গবেষকরা এই ভিডিও এবং সেন্সর ডেটা বিশ্লেষণ করে তাদের মতামত জানান। এর মাধ্যমে তথ্যের গোপনীয়তার দেয়াল ভেঙে একটি বিশ্বজনীন বৈজ্ঞানিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। আমাদের চেনা জগতের বাইরে যে আরও অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে এবং আমাদের বর্তমান বিজ্ঞান যে এখনও সবকিছুর উত্তর জানে না, এই ডি-ক্লাসিফাইড ফাইলগুলো তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

এই ৮ মে তারিখটি ইতিহাসের পাতায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। মানুষের কৌতূহল এবং অজানা বিষয়কে জানার যে চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা, তাকে সম্মান জানিয়ে মার্কিন সরকার যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা আগামী দিনের মহাকাশ গবেষণার রূপরেখা বদলে দিতে পারে। এখন সময়ের অপেক্ষা, এই হাজার হাজার পৃষ্ঠার তথ্যের গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল সত্যটি কবে আমাদের সামনে আসবে। পৃথিবী কি সত্যিই অন্য কোনো উন্নত সভ্যতার নজরে রয়েছে, নাকি এগুলো কেবলই প্রকৃতির কোনো অচেনা রূপ—সেই উত্তরের পথ এখন অনেকটা প্রশস্ত হলো।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন