মুকুল রায়ের পরে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড হওয়ার কথা শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী সেই সুযোগ অভিষেক ছাড়া আর কাউকে দিতে চায়নি। মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রশাসনিক সমস্ত রকমের ক্ষমতা অভিষেক ব্যানার্জির মাধ্যমে নিজের পরিবারের মধ্যেই রাখতে চেয়েছিলেন। ইচ্ছে ছিল জ্যোতি বসুর ২৪ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে তারপর ভাইপোর হাতে রাজ্যের ভারাভার তুলে দিতে। কিন্তু সেটা হলো না। এক সময়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড শুভেন্দু অধিকারীকে নিজের সিংহাসনে দেখতে হচ্ছে। আর শুধুমাত্র চোর লম্পট ঠগদের নিয়ে রাজনৈতিক দল তৈরি করলে সেই দলের শেষ পরিণতিটা কি হয় সেটাও মমতা ব্যানার্জিকে দেখে যেতে হচ্ছে। এদিকে তৃণমূলের শুভেন্দু বিজেপিতে গিয়ে মুখ্য হলে দক্ষিণপন্থার আদর্শ অনুযায়ী তৃণমূল বিজেপির নীতি একই হওয়ায় আরএসএসের কোনও আপত্তি নেই।
আরও পড়ুনঃ অ্যাকশনে মুখ্যমন্ত্রী! সোমবার রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বড় বৈঠক শুভেন্দুর
কুড়িয়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা কিংবা লটারি জুয়ার ষোল আনা, বেশিদিন দিন থাকে না। সেটা অর্থ হোক বা ক্ষমতা। যে অভিষেকের ব্যাঙ্কে একটা একাউন্ট পর্যন্ত নেই সেই চালচুলোহীন মানুষটি লাখ টাকা দামের টি শার্ট, ৩লাখের হাতঘড়ি, ৮০ হাজার টাকা জুতো, চলন্ত সিঁড়ি এসকালেটর, কোটি টাকার ঝাড়বাতি। বাড়ির সামনে প্রতিদিন কলকাতা পুলিসের ১০০ জন ফোর্স ও অফিসার পাহারায়। সঙ্গে নিরাপত্তার জন্যে কলকাতা পুলিসের পক্ষ থেকে অত্যাধুনিক স্ক্যানার। বডিগার্ড হিসাবে নিযুক্ত ছিল ৩০ জনের বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত জোয়ান। চোখের চিকিৎসা আমেরিকায়, দেশের ভিতর যাতায়াতের জন্যে চাটার্ড বিমান, বিধানসভা নির্বাচনের সময় কালীঘাট থেকে বারাসাত যেতেও হেলিকাপ্টার। টালির চাল থেকে লাক্সরিয়াস লাইফস্টাইল। মমতা ব্যানার্জী অভিষেককে যুবরাজ গড়তে গিয়ে যমরাজে পরিণত করলে যা হওয়ার তা হল।
আরও পড়ুনঃ পরমাণু মিসাইল উৎক্ষেপণ ভারতের, হাঁ করে দেখলেন বাংলাদেশিরা
ওদিকে হারার পরের দিনেই ‘চুপ্ … চুপ্, চনা ভাজা কিনে দিব খাবি টুপ্ টুপ্’ বলতে মুলার ব্যাটা অখি এসে হাজির। যেন চোর ছানাটা কালই দেশোদ্ধার করতে নেমে পড়বে! আরে ভাই, এখন তো প্রতিদিন কালীঘাটের শান্তিনিকেতনের আয়রন গেটের সামনে পাড়ার লোকেরা এসে চোর চোর করে চিৎকার চেঁচামেচি করে যাচ্ছে। বাইরে কিছু করতে গেলেও এখন পিসির হাত ধরেই যেতে হবে। পরের পেয়ে পোদ্দারি বেশি দিন চলে না, ছেলেটা যদি এবার বুঝে! এদিকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার আগেই শুভেন্দু অধিকারী হুংকার দিয়ে বলেছেন তৃণমূলের সব দুর্নীতির ফাইল এবার খোলা হবে। নিশ্চয়ই সবচেয়ে আগের দুর্নীতির ফাইল আগে খোলা হবে। আর এই প্রক্রিয়া ক্রমান্বয়ে হলে সবার আগে সারদা দুর্নীতির ফাইল খোলা হবে। অপেক্ষায় থাকলাম সারদার মামলার দুর্নীতির ফাইল খোলার জন্য।


