দীর্ঘ ১০ দিনের টানটান উত্তেজনার অবসান। রুদ্ধশ্বাস জল্পনা ও ম্যারাথন বৈঠকের পর অবশেষে কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ভিডি সতীশনের নাম ঘোষণা করল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করলেন কেরল কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী দীপা দাশমুন্সি। কেরলে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে হাত শিবিরে জোর জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৬১ বছর বয়সি সতীশনকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেঁচে নিয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড।
আরও পড়ুনঃ মমতাকে ‘চোর চোর’ স্লোগান, হুলস্থুল কাণ্ড আদালত চত্বরে
গত ৪ মে কেরল বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) টানা এক দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে জয়ী হয়। তবে ফল ঘোষণার পর অন্যান্য রাজ্যে দ্রুত সরকার গঠন হলেও কেরলে কংগ্রেস থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বাছাই করা হবে, তা নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও, কিন্তু কে হবেন, তা নিয়েই যাবতীয় সংশয় ছিল। মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র দড়িটানাটানি চলছিল। অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিথালার মতো হেভিওয়েট নেতাদের নাম আলোচনায় থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সতীশনের জনপ্রিয়তা ও রণকৌশলকেই সিলমোহর দিল এআইসিসি। এদিন দিল্লিতে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সি। তিনি ঘোষণা করেন, ‘তিরুবনন্তপুরমে গত ৭ মে কংগ্রেস বৈঠকে বসে এবং সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেন যে কংগ্রেস সভাপতি কেরলমের নতুন নেতা নিয়োগ করবেন। ভিডি সতীশনকে সিএলপি-র নেতা হিসাবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুনঃ ‘প্লিজ প্লিজ স্যর, বিচারপতির কাছে হাত জোড় করে ভেঙে পড়লেন মমতা
শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেসের পরিষদীয় দল অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির জেনারেল কেসি বেণুগোপালের নামে সমর্থন জানালেও, সতীশনের বিপুল সমর্থনের কথা মাথায় রেখে তাঁকেই বেছে নেওয়া হয়। বিগত পাঁচ বছর ধরে তিনিই কংগ্রেসের মুখ ছিলেন ওই রাজ্যে। এবারের ১০২ আসন জয়ের পিছনেও তিনিই অন্যতম রূপকার। একই সঙ্গে তিনি এর্নাকুলাম জেলার নর্থ পারাভুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। পারভুর কেন্দ্র থেকে টানা ছয়বারের বিধায়ক ৬১ বছর বয়সি ভিডি সতীশন কেরল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় মুখ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যখন দলের মনোবল তলানিতে ঠেকেছিল, তখন বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব নিয়ে দলকে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন তিনি। গত পাঁচ বছরে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করে তোলেন সতীশন। যদিও দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের একাংশ এবং গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ কেসি বেণুগোপালের অনুগামীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লবিং চালিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত সতীশনের নামেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাইকম্যান্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বেণুগোপাল বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং দলের স্বার্থই আমার কাছে সবথেকে ওপরে।’ ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা সতীশনের এই মসনদ লাভ কেরল কংগ্রেসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।


