Friday, 22 May, 2026
22 May
HomeকলকাতাKMC: পাপ বাপকেও ছাড়ে না, ইতিহাসের কি নির্মম পরিহাস! গেরুয়া ঝড়ে কলকাতা...

KMC: পাপ বাপকেও ছাড়ে না, ইতিহাসের কি নির্মম পরিহাস! গেরুয়া ঝড়ে কলকাতা পুরসভার অধিবেসন বসল কাউন্সিলর্‌স ক্লাব রুমে

কলকাতা পুরসভায় অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে কেউ মনে করতে পারছেন না।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কলকাতা পুরসভায় শুক্রবার এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, যা নিয়ে বিস্মিত প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে পুর রাজনীতির অভিজ্ঞরাও। নির্ধারিত মাসিক অধিবেশনের দিন পুরসভার মূল অধিবেশন কক্ষের দরজায় তালা ঝুলতে দেখে কার্যত হতভম্ব হয়ে যান কাউন্সিলররা। ভিতরে ঢোকার সমস্ত পথ বন্ধ থাকায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অন্য ঘরে বসেই সভা করতে হল তৃণমূল নেতৃত্বকে।

সকালে নির্ধারিত সময়েই পুরসভায় পৌঁছেছিলেন কাউন্সিলররা। নিয়ম অনুযায়ী মাসিক অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল মূল সভাকক্ষে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে তালা দেওয়া রয়েছে। শুধু কাউন্সিলরেরাই নন, পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত হন পুরসভার চেয়ারপার্সন তথা তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ও।

আরও পড়ুনঃ নিস্তব্ধ সবংয়ের প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি, ‘নিখোঁজ’ মানস ভূঁইয়া

সূত্রের খবর, অধিবেশন শুরুর আগে মালা রায় নিজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘর খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও তালা খোলা হয়নি বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি জটিল হতে থাকায় শেষ পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তারপরেই পুরসভার কাউন্সিলর্‌স ক্লাব রুমকে অস্থায়ী অধিবেশন কক্ষে পরিণত করা হয়। তবে সেই ঘর কোনওভাবেই আনুষ্ঠানিক সভার উপযোগী ছিল না। সেখানে নির্দিষ্ট আসনবিন্যাস ছিল না, ছিল না মাইকের ব্যবস্থাও। কাউন্সিলরেরাই চেয়ার-টেবিল সরিয়ে কোনওরকমে বসার ব্যবস্থা করেন। কার্যত তাৎক্ষণিক উদ্যোগেই ঘরটিকে সভা করার উপযুক্ত করে তোলা হয়।

পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হয় অধিবেশন। মাইক ছাড়াই বক্তব্য রাখতে দেখা যায় ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষকে। উপস্থিত কাউন্সিলরেরাও ঘনিষ্ঠভাবে বসে আলোচনা চালান। যদিও গোটা পরিস্থিতি নিয়ে পুর প্রশাসনের অন্দরে প্রবল অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

অধিবেশন শুরুর আগে সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে মালা রায় খুব সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি জানান, অধিবেশন করার জন্যই ঘর খোলার অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় বিকল্প ঘরে সভা করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, উপস্থিত প্রত্যেকেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তাঁদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতেই হবে।

মালা রায়ের কথায়, পরে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে সেই মুহূর্তে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। একই অবস্থান নিতে দেখা যায় মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও। অধিবেশন শুরুর আগে তিনিও প্রকাশ্যে বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

আরও পড়ুনঃ নিজে হেঁটে শ্মশানে যাওয়া ‘মৃত’ কাউন্সিলর সহ বহু তৃণমূল নেতা গ্রেফতার রাজ্য জুড়ে

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুর রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কী কারণে অধিবেশন কক্ষ বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। যদিও সরকারি বা প্রশাসনিক স্তর থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।

কলকাতা পুরসভার দীর্ঘ ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে বলে মনে করতে পারছেন না প্রবীণ কাউন্সিলরদের অনেকেই। সেই কারণেই এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে পুর প্রশাসনের এই ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।

সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সভাকক্ষে তালা ঝোলার ঘটনা শুধু প্রশাসনিক বিভ্রাট নয়, বরং তা কলকাতা পুরসভার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন