নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক যেমনটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ঠিক তেমনটাই হলো। সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ভিআইপি গেটের সামনে, ইএম বাইপাস লাগোয়া রাস্তায় বছরের পর বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অতি বিতর্কিত এবং চর্চিত ভাস্কর্যটি অবশেষে ভেঙে ফেলা হলো । ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশের তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে থাকা এই কাঠামোটি সরানোর মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনেও একপ্রকার ‘জমানা বদল’-এর কড়া বার্তা দিল রাজ্যের নতুন সরকার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র কয়েক দিন আগেই যুবভারতীতে দাঁড়িয়ে এই মূর্তি সরানোর ডেডলাইন দিয়েছিলেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী, আর তার পরেই মিলল দ্রুত অ্যাকশন।
আরও পড়ুনঃ ‘সবকা’ সাথ সবকা ‘বিকাশ” ‘ক্যাস আছে যেখানে বিকাশ আছে সেখানে’; নিজের দলেই তোপের মুখে বিকাশ
কেন এই মূর্তিকে ঘিরে এত বিতর্ক ছিল? ফিরে যেতে হবে ২০১৭ সালে, যখন ভারতে প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিল। সেই মেগা টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বিশ্বমানের করে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল যুবভারতী স্টেডিয়ামকে। মাঠের অ্যাস্ট্রোটার্ফ বদলে ফেলা হয়েছিল প্রাকৃতিক ঘাসে, গ্যালারিতে বসেছিল আধুনিক বাকেট সিট। ঠিক সেই সময়েই স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটের সামনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব ভাবনায় তৈরি এই বিশাল মূর্তিটি বসানো হয়।
ফুটবলারের পোশাক পরা একটি অর্ধমানব আকৃতির এই আজব মূর্তির নিচে ছিল দু’টি পা, আর তার ওপর বসানো ছিল একটি বিশাল গোলক— যাতে আঁকা ছিল ‘বিশ্ববাংলা’র লোগো। দুই পায়ের পাশে ফুটবল, যার গায়ে লেখা ছিল ‘জয়ী’। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক মানের একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সামনে এই ধরনের নকশাহীন কিম্ভূত মূর্তি কেন থাকবে? তার চেয়ে বাংলার বা দেশের কোনও ফুটবল কিংবদন্তির মূর্তি বসালে জঙ্গলমহল থেকে কলকাতা, সব ফুটবলপ্রেমী খুশি হতেন। ফলে গত কয়েক বছর ধরেই এটি তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল।
গত রবিবার আইএসএল-এর মেগা কলকাতা ডার্বি দেখতে যুবভারতীতে গিয়েছিলেন নতুন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম থেকে বেরনোর সময় এই মূর্তি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ দঃ দমদমের TMC কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার! বাড়ছে রহস্য
বেশ চড়া সুরেই মন্ত্রী বলেন, “এরকম অদ্ভুত বিদঘুটে একটা মূর্তি, একটা কাটা পা আর তার ওপর ফুটবল! আমার তো মনে হয় এই মূর্তি লাগানোর পর থেকেই আগের সরকারের খারাপ সময় শুরু হয়েছিল। এমন একটা মূর্তি যার কোনও মাথামুণ্ডু বা অর্থ নেই, আমরা খুব দ্রুত সেটা পরিবর্তন করব।” তিনি স্পষ্ট জানান, যুবভারতীর মতো আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের সামনে এটি একেবারেই শোভনীয় নয়।
মন্ত্রীর সেই বার্তার পর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হলো না। শনিবার সকালেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো যুবভারতীর সামনের সেই বিতর্কিত কাঠামোটি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রীড়া পরিকাঠামোয় এটিই প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মূর্তি সরানোর পর এখন ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন, ওই ফাঁকা জায়গায় এবার কাকে স্থান দেওয়া হবে? ক্রীড়াপ্রেমীদের দাবি, এবার যেন কোনও রাজনৈতিক প্রতীক নয়, বরং পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনী গোস্বামী বা শৈলেন মান্নার মতো বাংলার কোনও দিকপাল ফুটবল কিংবদন্তির মূর্তি বসিয়ে যুবভারতীর সম্মান পুনরুদ্ধার করা হয়।



