আজ রবিবার ফের রাজ্যে ভোটগণনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা বিধানসভার ভোটের ফলঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে ফলাফল যে কী হতে পারে, তা আগে থেকেই স্পষ্ট। কারণ, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের ঝড়ে কার্যত বিজেপির সামনে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমন প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে গত ২১ মে পুনর্নির্বাচন হয় ফলতা বিধানসভায়। আর তাতে প্রতিদ্বন্দ্বীতাই করেননি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। নির্বাচনের দু’দিন আগে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপির সামনে ছিল খোলা মাঠ। সেই মাঠে জয়ের ব্যবধান পদ্ম শিবির কতটা বাড়িয়ে রাখতে পারল সেই উত্তর মিলবে আজই।
জাহাঙ্গিরের সরে যাওয়ার পর ফলতায় মোট পাঁচজন প্রার্থী লড়াই করেছেন। সেই তালিকায় BJP ছাড়াও রয়েছে কংগ্রেস এবং CPIM-ও। বিজেপির থেকে তারা কতটা ভোট কাটতে পারেন, তার উত্তরও আজ পাওয়া যাবে। তবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফলতা পুনর্নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছেন। প্রায় ৮৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন পুনর্নির্বাচনে। তবে জয় নেই কোনও সন্দেহ নেই বিজেপি শিবিরের অন্দরে। শুধু দেখার মার্জিন কতটা নিয়ে এগিয়ে থাকা যায়।
আরও পড়ুনঃ গুরুতর অভিযোগ! রাতের অন্ধকারে কলকাতা পুরসভা থেকে নথি সরানোর চেষ্টা?
সকাল ৮টা থেকেই ফলতা পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হল। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন কাউন্টিং এজেন্ট এখনও ভোটগণনা কেন্দ্রে পৌঁছানি বলেই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে ভোট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।
গত বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায়, ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোট হয়েছিল। কিন্তু সেই ভোটে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিজেপি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখে কমিশন পুরো ভোটই বাতিল করে দেয় এবং ফলতায় পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।
গত ২১ মে, ফলতায় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় পুনর্নির্বাচন হয়। সকাল থেকে বহু বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
দিনভর কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের টহল ছিল ব্যাপক। বিশেষ করে ‘পুষ্পা’ খ্যাত জাহাঙ্গির খানের বাড়ির আশপাশে নিরাপত্তা ছিল নজরদারি পর্যায়ে। তবে গোটা দিনই ভোট শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান গ্রেফতার
কমিশন সূত্রে জানা গেছে-
- মোট ১৯টি টেবিল রাখা হয়েছে
- ২১ রাউন্ডে ভোটগণনা হবে
- বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তিনস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়
সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থীরাও লড়াইয়ে থাকায় ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। ফলে আজকের ফলাফলে কে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উত্তাল। তৃণমূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো, বিজেপির জোরদার প্রচার, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল- সব মিলিয়ে ফলতা এখন রাজনৈতিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। আজকের গণনাই ঠিক করবে ফলতার জনরায় কোন দিকে গেল।



