ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের চড়ল উত্তেজনার পারদ। সোমবার সকালে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মনে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। জিরো লাইন অতিক্রম করা এক বাংলাদেশি নাগরিককে ঘিরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবির মধ্যে তীব্র টানাটানি শুরু হয়। ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া স্থানীয় জনতা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে।
আরও পড়ুনঃ রণক্ষেত্র শিলিগুড়ি! BSF কে লক্ষ্য করে পাথর বাংলাদেশিদের
পরিস্থিতি যখন ভয়ানক রূপ নিচ্ছিল, তখন বিএসএফ জওয়ানরা এ কে-৪৭ রাইফেল তাক করে সতর্ক অবস্থান নেন। শেষ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা জনতাকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল প্রায় নয়টার দিকে এক বাংলাদেশি যুবক জিরো লাইন পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিএসএফের টহল দল তাকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যায় এবং ধরে ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে বিজিবির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।
দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে তখন শুরু হয় টাগ অফ ওয়ারের মতো অবস্থা। যুবকটিকে একদিকে টানছেন বিএসএফ, অন্যদিকে টানছেন বিজিবি সদস্যরা। চিৎকার, ধাক্কাধাক্কি আর উত্তেজিত কণ্ঠস্বরে সীমান্ত এলাকা ভরে ওঠে।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রাম থেকে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে যান। ক্ষোভে উত্তেজিত জনতা বিএসএফের দিকে পাথর ছুড়তে শুরু করে। পাথরের আঘাতে কয়েকজন বিএসএফ সদস্য আহত হন বলে প্রাথমিক খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুনঃ পুলিশের জালে প্রাক্তন বিডিও ‘গুণধর’ প্রশান্ত
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই বিএসএফ জওয়ানরা তাদের অস্ত্র তাক করে সতর্কবার্তা দেন। এই মুহূর্তটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল। একটু এদিক-ওদিক হলেই বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারত।সেই সংকটময় মুহূর্তে বিজিবি কর্মকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তারা জনতাকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য করেন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিজিবির একজন কর্মকর্তা পরে জানান, “আমরা চাই না সীমান্তে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রাখার স্বার্থে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে।” অন্যদিকে বিএসএফ সূত্র জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



