কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
রাজ্যের চর্চিত স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এবং রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ জামিন পেলেন। সোমবার রাতে পথ দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়লেও, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারাসত আদালত থেকে তিনি সহজেই জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। প্রশান্ত বর্মণের জামিন পাওয়ার নেপথ্যে প্রশাসনিক গাফিলতি ও তদন্তকারী আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে কেন্দ্রের বড় কৌশলগত পরিকল্পনা
কী ঘটেছিল আদালতে?
মঙ্গলবার প্রশান্ত বর্মণকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক সংশ্লিষ্ট মামলার সমস্ত নথি তলব করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে উপস্থিত হননি এবং প্রয়োজনীয় নথিও জমা পড়েনি। আদালতের কাছে অন্য কোনো পুরনো মামলার (খুনের মামলা) প্রেক্ষিতে রিমান্ড বা হেফাজতের কোনো আবেদনও পেশ করা হয়নি। এমতাবস্থায়, বিচারক ১০০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে প্রশান্তর জামিন মঞ্জুর করেন। আইনজ্ঞদের মতে, পুলিশের সমন্বয়হীনতার কারণেই এমন একটি গুরুতর মামলার অভিযুক্তকে লঘু ধারায় জামিন পেতে সুবিধা হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট:
সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রশান্ত বর্মণের গাড়ি এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। ছিটকে গিয়ে ওই ব্যক্তি একটি স্কুটার আরোহীর গায়ে পড়লে তিনিও আহত হন। স্থানীয়রা প্রশান্তর গাড়ি আটকে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ পথসুরক্ষা বিধি ভাঙা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো সহ সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর রুজু করে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। ঘটনার সময় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃ আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার কোচবিহার যুব তৃণমূলের সভাপতি
পুরনো মামলার জট:
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছির খাল থেকে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই প্রশান্ত বর্মণের নাম সামনে আসে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার কথা থাকলেও তিনি দীর্ঘ সময় পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনার জেরে ধরা পড়লেও, আইনি প্রক্রিয়ার গোলকধাঁধায় জামিন পেয়ে গেলেন অভিযুক্ত।



