কলকাতা পুরসভায় ফের বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক কাউন্সিলর এবং পুর প্রতিনিধিদের পদত্যাগের আবহে এবার বোরো ১২ চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুশান্ত ঘোষ। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ ছাড়লেন অরূপ চক্রবর্তীও। এই দুই পদত্যাগ ঘিরে নতুন করে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে অসন্তোষ এবং ভাঙনের ছবি সামনে আসতে শুরু করেছে। তারই জেরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুরসভায় গণ-ইস্তফার ঘটনা ঘটেছে। কলকাতা পুরসভাতেও সেই ভাঙনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
আরও পড়ুনঃ ‘পুরীতে গা-ঢাকা’; সেখান থেকেই তৃণমূল বিধায়ককে ধরল পুলিশ
এর আগে বরো ৯-এর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁর ইস্তফা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। পদত্যাগের সময় দেবলীনা অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো নিয়ে দলের তরফে তাঁর উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। সেই কারণেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন।
তবে এবার সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তীর পদত্যাগের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁরা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করায় জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের অন্দরে যে অস্বস্তি এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, এই পদত্যাগ সেই পরিস্থিতিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
শুধু কলকাতা পুরসভাতেই নয়, জেলায় জেলায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের পদত্যাগের ঘটনা এখন শাসকদলের কাছে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক পুরসভায় কাউন্সিলররা দল ছাড়ছেন, আবার অনেকে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। ফলে স্থানীয় স্তরে সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার কালীঘাটে নিজের বাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে হওয়া ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মদন মিত্র-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে মূলত সংগঠনকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচানো, কাউন্সিলরদের মনোবল ধরে রাখা এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ আইনি কমিটি গঠনের ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতারি এবং তদন্তের আবহে এই কমিটি বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, ব্যাপক লুঠপাট করা অভিষেকের বন্ধু সুমিতের শাস্তি চাইছে ডায়মন্ড হারবার
বৈঠকের শেষে আবেগঘন বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “আমি কাউকে জোর করে আটকে রাখব না। যাঁদের ইচ্ছে তাঁরা যেতে পারেন। কিন্তু যাঁরা দলের সঙ্গে থাকবেন, তাঁদের নিয়েই আমি আবার নতুন করে দল গড়ব।” তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই দলের বর্তমান সংকটের স্বীকারোক্তি হিসেবেই দেখছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বহু ক্ষেত্রে এমন ঘটনাতেও কাউন্সিলরদের নাম জড়ানো হচ্ছে যেখানে প্রকৃতপক্ষে কোনও অপরাধই ঘটেনি।



