মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের আঁচ এবার এসে পড়ল ভারতের আকাশে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে লাগাতার বাড়তে থাকা বিমান জ্বালানি বা এটিএফ-এর মূল্যের কোপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল দেশের উড়ান সংখ্যার ওপর। বুধবার দেশের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের জন্য দেশীয় উড়ান বা ফ্লাইটের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা করেছে। এই পরিবর্তনটি ১ জুন থেকে অগস্ট মাসের মধ্যে কার্যকর হবে। জেট ফুয়েলের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোও নিজেদের ডোমেস্টিক পরিষেবা ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ লেবাননে আবার হামলা শুরু ইজ়রায়েলি সেনার! মহিলা, শিশু-সহ নিহত অন্তত ৩১
এই ফ্লাইট কমানোর প্রধান কারণ হল, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর হামলার জের ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাত, যার ফলে জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে। এছাড়াও, ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার কারণে আন্তর্জাতিক রুটগুলি দীর্ঘতর হয়েছে এবং পাকিস্তানের আকাশসীমার ওপর বিধিনিষেধও এই পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এফআইএ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি খরচ, যা আগে বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন ব্যয়ের ৪০ শতাংশ ছিল, তা এখন বেড়ে ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী সংস্থা সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট কমানোর এই প্রবণতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর মার্চ ও এপ্রিলে ভারতের চারটি বৃহত্তম বিমান সংস্থা প্রায় ৬ শতাংশ কম ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। ইন্ডিগো তাদের ফ্লাইট ৪.৫ শতাংশ এবং এয়ার ইন্ডিয়া ৭.৫ শতাংশ কমিয়েছে। এই সময়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ১৭.১ শতাংশ কম ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের অফিস থেকে স্কুল ড্রেসের সঙ্গে উদ্ধার প্রচুর কন্ডোম
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা বাজারের চাহিদা এবং পরিচালন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হলেই তারা ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করবে। সূত্রের খবর, ডোমেস্টিক ফ্লাইটের সংখ্যা ২২ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। এর ফলে সাপ্তাহিক প্রায় ৭৯০টিরও বেশি ফ্লাইট কমে যাবে। শুধু এয়ার ইন্ডিয়াই নয়, ইন্ডিগোও বর্তমানে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ বা ‘ক্যাপাসিটি ডিসিপ্লিন’-র পথে হাঁটছে বলে জানা যাচ্ছে। গরমের ছুটির পর যাত্রী চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়াও এই সিদ্ধান্তের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ইন্ডিগোর সূত্র জানিয়েছে যে, যাত্রী চাহিদা কমার সম্ভাবনা দেখেই এই পদক্ষেপ নিতে তারা বাধ্য হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রথম ধাপে কিছু নির্দিষ্ট রুটে উড়ানের সংখ্যা কমানো হবে। বিশেষ করে মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং কলকাতার মতো বড় বিমান কেন্দ্রগুলিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। কিছু কম চাহিদাসম্পন্ন রুটে পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ বা ফ্রিকোয়েন্সি কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।



