অশান্ত মণিপুরে ফের এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। শুক্রবার সকালে উখরুল জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় চলা একটি পণ্যবাহী ট্রাক কনভয়ের উপর অতর্কিতে গুলি চালায় সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীরা। আচমকা হামলায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক ট্রাক চালকের। ঘটনার পর গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নতুন সরকার, নতুন বাংলা; বাংলায় বড় বিনিয়োগের পথে আমুল
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টা নাগাদ উখরুল জেলার লিটান থানার অন্তর্গত টিএম কাসোম এলাকার কাছে ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিএসএফ, সিআরপিএফ এবং মণিপুর পুলিশের যৌথ বাহিনী প্রায় ১৫ থেকে ২০টি পণ্যবাহী ট্রাককে নিরাপত্তা দিয়ে উখরুলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। ট্রাকগুলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও বাণিজ্যিক পণ্য ছিল বলে জানা গেছে।
ঠিক সেই সময় পাটলেইজাং এলাকা থেকে কনভয় লক্ষ্য করে আচমকাই গুলিবর্ষণ শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক অনুমান, সশস্ত্র কুকি উগ্রপন্থীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। পরিকল্পিতভাবেই পাহাড়ি এলাকা থেকে কনভয়ের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
চোখের নিমেষে শান্ত রাস্তা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উগ্রপন্থীদের ছোঁড়া একটি গুলি সরাসরি এক ট্রাক চালকের গায়ে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ট্রাকের স্টিয়ারিংয়ের উপর লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে নিহত চালকের নাম-পরিচয় এখনও সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার পরই কনভয়ের নিরাপত্তায় থাকা বিএসএফ, সিআরপিএফ এবং মণিপুর পুলিশের জওয়ানরা পাল্টা গুলি চালাতে শুরু করেন। দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ তীব্র গুলির লড়াই চলে। গুলির শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। পরে হামলাকারীরা পাহাড়ি জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায় বলে নিরাপত্তা সূত্রে খবর।
ঘটনার পর সেনাবাহিনী, বিএসএফ এবং মণিপুর পুলিশ যৌথভাবে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। জাতীয় সড়কের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চল ও জঙ্গলে অভিযান চালানো হচ্ছে। অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনও হামলার ঘটনা না ঘটে।
আরও পড়ুনঃ দিনদুপুরেই রাতদুপুর!, কলকাতায় ৬০ কিমি গতিতে ঝড়
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই উখরুল জেলার শাঙ্গকাই গ্রামে জাতীয় সড়ক অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা রাস্তার উপর গাছের গুঁড়ি, পাথর ও বাঁশ ফেলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। অবরোধ তুলতে নিরাপত্তা বাহিনীকে টিয়ার গ্যাসের শেল ও স্মোক বোমা ব্যবহার করতে হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা পরিষ্কার করে ট্রাকের কনভয়টি যখন উখরুলের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই এই প্রাণঘাতী হামলা ঘটে। ফলে অবরোধ এবং হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে মণিপুরে জাতিগত সংঘাত, অবরোধ, গুলির লড়াই এবং উগ্রপন্থী হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জাতীয় সড়কগুলিতে বারবার হামলার কারণে খাদ্য, ওষুধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। এই নতুন হামলার পর প্রশাসন আরও সতর্ক হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। মণিপুরে শান্তি ফেরাতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



