Monday, 1 June, 2026
1 June
HomeকলকাতাCPI(M): মমতার মধ্যে লেনিনকে দেখেছিলেন, সেই তৃণমূলেই ভাঙন ধরাচ্ছেন ঋতব্রত? বহিষ্কারের খবর...

CPI(M): মমতার মধ্যে লেনিনকে দেখেছিলেন, সেই তৃণমূলেই ভাঙন ধরাচ্ছেন ঋতব্রত? বহিষ্কারের খবর শুনেই সৃজন-সুজন বলছেন, ‘ওয়ান্স আ ট্রেটর…’

মহিলাঘটিত ইস্যু থেকে, হিসাব বহির্ভূত আয়, ঋতব্রতর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছিল দীর্ঘদিন ধরেই।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

সেপ্টেম্বর, ২০১৭। আলিমুদ্দিনের ‘প্রমিসিং’ ছাত্রনেতাকে দল থেকে বহিস্কার করতে বাধ্য হয়েছিল সিপিএম। মহিলাঘটিত ইস্যু থেকে, হিসাব বহির্ভূত আয়, ঋতব্রতর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছিল দীর্ঘদিন ধরেই। সেই সময় দল বহিষ্কার করার পর, ঋতব্রত বলেছিলেন, নাড়ির টান ছিন্ন হওয়ার মতো যন্ত্রণা পেয়েছেন। সেই ঋতব্রত গেলেন তৃণমূলে। রাজ্যসভার টিকিট পেয়ে, ২০২৪  সালে, এক সংবাদমাধ্যমে তৃণমূলের ঋতব্রত বলেছিলেন, মমতা ব্যানার্জির মধ্যে লেনিনকে দেখেছেন। বলেছিলেন, মমতা ব্যানার্জি যেভাবে গরীব,  প্রান্তিক মানুষের জন্য ভাবেন, মানুষের সামাজিক অধিকারের জন্য কাজ করেন, সেটাই প্রকৃত বামপন্থা। 

আরও পড়ুনঃ ভেঙে চুরমার তৃণমূল! ঋতব্রতর নেতৃত্ব বদল; সঙ্গে ৫০ বিধায়ক

সেই মমতা ব্যানার্জির দল, বহিষ্কার করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রায় ১০ বছরের মাথায়, দুই দল থেকে, বহিষ্কার একজন নেতা। সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নাম উল্লেখ করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে দেন, তৃণমূলের ‘সই জাল’ কেলেঙ্কারির কথা বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন এই দু’জন। ঠিক তার কয়েক মিনিট পরেই জানা যায়, ওই দু’জনকে বহিষ্কার করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরে যদিও দু’জনেই সংবাদ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, যার মর্মার্থ, ‘দলে থেকে কাজ করা যাচ্ছে না, পরিবেশটাই নেই।’ নেই সামান্য প্রশ্ন করার জায়গাটাই।

২০২৬-এ দাঁড়িয়ে ২০১৭-এর কথা মনে পড়ছে সিপিএম-এর? কী বলছেন বর্ষীয়ান বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী? আজকাল ডট ইন-কে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কার শব্দটার কোনও যোগ নেই। অর্থই নেই। গরুর গাড়ির হেডলাইট যেমন হয় না, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার হয় না। কে বহিষ্কার হচ্ছে, আর কখন কে আসছে, ও খায় না মাথায় দেয়, এটা কেউই জানে না। আর কাকে বহিষ্কার করবে। ৮০জনের মধ্যে ২০ জন বৈঠকে আসেন। সবাই তো পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এমনিতেই যাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে, তাঁরা নিজেরাই নিজেদের বহিষ্কার করে বসে আছেন।’ সঙ্গেই বলেন, ‘আর একটা কথাই বলতে চাই, সিপিএম কখনও নৈতিকতার প্রশ্ন আপোস করে না।’

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলকে ভাঙা যাবে না, স্পষ্ট জানালেন মমতা

অন্যদিকে সৃজন ভট্টাচার্য, এসএফআই-এর  সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, মনে করছেন ২০১৭-এর কথা। সৃজন বলছেন, ‘ঋতদা, আমাদের সময়ের এসএফআই নেতা। যখন বাম আন্দোলন থেকে বেরিয়ে তৃণমূলে গেল, একেবারেই যে ধাক্কা খাইনি তা নয়, কিন্তু আজ যখন ঋতদা তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছে এবং বঙ্গভবনে কাকতালীয়ভাবে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করছে বা বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে শুভেন্দু অধিকারীর দেখা করছে, তখন পিছন ফিরে তাকালে মনে হচ্ছে যে সেদিন ধাক্কা খাওয়াটা আমাদের উচিত হয়নি, চেনা উচিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘যিনি একবার মতাদর্শের প্রশ্নে আপোস করতে পারেন তিনি হয়তো বারবার মতাদর্শের প্রশ্নে আপোস করতে পারেন। আজকের ঋতদাকে দেখলে মনে হয়, ওই যে বাক্যটা আছে, ওয়ান্স আ ট্রেটর…।’ 

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন