বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর নাবালিকা মেয়েকে হেনস্থা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী সঞ্জু শর্মাকে। দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, টানা ১৫ দিনের ছুটির দাবি মঞ্জুর না হওয়াতেই মেজাজ হারিয়ে প্রাক্তন মেয়রের ঘনিষ্ঠ মহলের ওপর চড়াও হয় ওই পিএসও।
ঝামেলার আসল কারণ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝামেলার মূলে ছিল ছুটির দাবি। সম্প্রতি ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী সঞ্জু শর্মা প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে একটি অদ্ভুত শর্ত রাখেন। তিনি জানান, তিনি টানা ১৫ দিন ডিউটি বা কাজ করবেন এবং তার বদলে পরবর্তী টানা ১৫ দিন তাঁকে সম্পূর্ণ ছুটি দিতে হবে। সঞ্জুর এই দাবি শুনে শোভন চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এভাবে দফায় দফায় ১৫ দিনের ছুটি দেওয়া তাঁর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই টানাপোড়েনের মাঝেই গতকাল সঞ্জুকে ডিউটিতে ডাকা হলে তিনি কাজে আসেননি।
আরও পড়ুনঃ বাড়িতে বুলডোজার অ্যাকশনের আশঙ্কা! শেষমেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেকের বাবা-মা
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর নাবালিকা কন্যাকে নির্মম মারধর
ছুটি না পাওয়ায় সঞ্জুর ক্ষোভ গিয়ে পড়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের ওপর। অভিযোগ, কাজে না আসার পর আচমকাই সঞ্জু শর্মা সেখানে চড়াও হন এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাবালিকা মেয়েকে চরমভাবে মারধর শুরু করেন। কন্যার চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত পাশের ঘর থেকে ছুটে আসেন। তিনি মেয়েকে বাঁচাতে গেলে সঞ্জু তাঁর ওপরও চড়াও হন বলে অভিযোগ। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় ও নিরাপত্তারক্ষীর এমন ভয়ঙ্কর রূপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পুরো পরিবার।
আরও পড়ুনঃ অন্দরে অস্বস্তি, তৃণমূলের দিকে তাকানো যাচ্ছে না; আজ মমতার পথে নামার দিনই ভাঙছে তৃণমূল
পুলিশি তৎপরতা ও মারাত্মক ধারায় মামলা
ঘটনার পরই রবীন্দ্র সরোবর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তৎপরতা দেখায় পুলিশ প্রশাসন। প্রাক্তন মেয়রের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নিরাপত্তারক্ষী সঞ্জু শর্মাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের বিরুদ্ধে এক নাবালিকা ও মহিলাকে শারীরিক হেনস্থা, মারধর এবং খুনের চেষ্টার মতো একাধিক মারাত্মক ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকা একজন নিরাপত্তারক্ষী কীভাবে এতটা উগ্র হয়ে উঠলেন এবং কেনই বা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়ের ওপর এভাবে চড়াও হলেন, তার সব দিক খতিয়ে দেখতে পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।



