নিজস্ব প্রতিবেদক, বঙ্গবার্তা
রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে তৎপরতা দেখিয়েছে। চালু করা হয়েছে, ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প। সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই তার, আবেদনপত্রও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই খুশির আবহের মাঝেই তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে, প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ১২ পাতার এক বিশাল পারিবারিক তথ্য সংবলিত ফর্ম। এত দীর্ঘ ফর্মে বিপুল তথ্য চাওয়ার জেরে সাধারণ মানুষের মনে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

নথির জেরক্সেই পকেট খালি
জনমানসে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, এই বিপুল নথিপত্র জোগাড় ও জমা দেওয়ার খরচ নিয়ে? ১২ পাতার ফর্মের সাথে আনুষঙ্গিক সমস্ত পারিবারিক তথ্যের প্রতিলিপি (জেরক্স) জমা দিতে যে পরিমাণ বাড়তি টাকা খরচ হবে, তা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন উপভোক্তারা। যে সমস্ত, আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া গরিব মহিলাদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়ার জন্য এই প্রকল্প। তার ফর্ম পূরণের চক্করে উল্টে তাঁদেরই পকেট থেকে একটা বড় অঙ্কের টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। এই অহেতুক আর্থিক বোঝা দরিদ্র আবেদনকারীরা কোথা থেকে মেটাবেন? তা নিয়ে মাঠপর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কি আপনাদের মনে পড়ছে! গৌতম দেবের সেই ভবিষ্যদ্বাণী; ‘শূন্য’ বলে অবহেলা করেছিলেন, যা আজ হুবহু মিলছে
তথ্য ফাঁসের মারাত্মক ঝুঁকি
আর্থিক সংকটের পাশাপাশি আরও বড় বিপত্তি দেখা দিয়েছে, তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে। রাজ্যের প্রান্তিক স্তরের বহু মহিলারই, অনলাইন ফর্ম ফিলাপ করার মতো পুঁথিগত বা প্রযুক্তিগত যোগ্যতা নেই। ফলে বাধ্য হয়েই, তাঁদের সাইবার ক্যাফে বা কোনো তৃতীয় ব্যক্তির সাহায্য নিতে হচ্ছে। এর ফলে তাঁদের অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য অনায়াসে, বেহাত হয়ে যাওয়ার বা জালিয়াতির কাজে ব্যবহার হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ টলিউডের ‘ডিগবাজি’র চেনা ছক; কারুকার্য শেষ, এবার দিদির পাশ থেকে ‘উধাও’ ‘সুবিধাবাদী’ সেলেবরা
নারী কল্যাণ মন্ত্রকে চিঠি
এই বিষয়টি সামনে এনে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন, বামপন্থী মহিলা সংগঠন নিখিল বঙ্গ মহিলা সংঘ(আর.এস.পি)।

তারা মূলত, মহিলাদের ও পরিবারের সদস্যদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তাদের পক্ষ থেকে রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শ্রীমতী অগ্নিমিত্রা পলকে চিঠি পাঠানো লিখে, এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন। যা নিয়ে, সম্প্রতি ‘বঙ্গবার্তা’ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্যে, তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে ঠিকই। কিন্তু তা যেন সাধারণ মানুষের জন্য হয়রানি বা আতঙ্কের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ‘সরকারের উচিত, এই জটিল তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সাথে পুনর্বিবেচনা করা।’ যদি নথিপত্রের সংখ্যা কমিয়ে আবেদন প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ-সরল করা এবং আমজনতার তথ্যের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।



