তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) রাজ্য চালাতে পারবেন না। পার্টি চালাতেও পারবেন না। পার্টি ধ্বংস হবে। তাঁর সমস্ত সিম্পটম দেখা যাচ্ছে। ওই পার্টি (তৃণমূল কংগ্রেস) ভাগ হয়ে যাবে।’ ২০১৩ সালে এক সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন সিপিআইএম নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব। তখন এই কথাগুলো শুনে হয়তো অনেকেরই ‘আকাশকুসুম’ মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল, এ আবার হয় নাকি! এমনকী দলেরই অন্দরেই একাংশ তাঁর এই কথায় ‘মুচকি হেসেছিলেন‘। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে পারে, সেটা বিশ্বাসই করা যায়নি।

যদিও ভাগ্যের পরিহাসে ২০২৬ সালে এসে ভোটে হারার মাত্র ১ মাসের মধ্যে ভেঙে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে গৌতম দেবের সেই দিনের কথা। তাই ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভবিষ্যদ্বাণী। অসুস্থ শরীর নিয়েই আজ আবার রাজ্য রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলেন বামেদের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলে তুলকালাম, মহাবিদ্রোহে বেসামাল তৃণমূল; সব কমিটি ভেঙে দিল দল
আসলে সিপিএম-এর অন্দরে বরাবরই দূরদর্শী হিসেবে পরিচিত গৌতম। তিনি ডাকাবুকো স্পষ্ট কথার জন্যও বিখ্যাত। আর তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই দলটাকে নিয়ে প্রচুর অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

কিন্তু তখন অধিকাংশ মানুষই এই সিপিআইএম নেতার কথা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। যদিও আজ তাঁর কথাই আবার অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে।
২০১১–এর আগেও বিরাট দাবি
২০১১ সালের আগে থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করতে করতে চর্চায় উঠে আসেন গৌতম। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিপিআইএম নেতা অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থীদের জেতাতে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ বা ‘কালো টাকা’ ব্যবহার করছে। সেই মতো একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন। যদিও সেই সময় তাঁর অভিযোগকে তেমন একটা পাত্তা দেয়নি সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই কারণে দমে যাননি গৌতম। যখনই সময় পেয়েছেন, তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতাকে আক্রমণে বিদ্ধ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ পুরো তছনছ তৃণমূল; গঠিত হল ‘নব তৃণমূল ব্লক’, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত
সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সততার প্রতীক’ হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মতো ক্যাম্পেনও চলেছে। যদিও এই দাবি প্রথম থেকে উড়িয়ে এসেছেন গৌতম। এই সিপিআইএম নেতার মতে, মমতা একজন ‘মিথ্যেবাদী’। তিনি ইচ্ছে করেই মিথ্যে কথা বলেন। মমতার মতো মিথ্যে কেউ আর বলতে পারেন না। কী করে একজন মুখ্যমন্ত্রী এতটা মিথ্যে বলেন, এই নিয়েও বিস্ময়প্রকাশ করেন গৌতম।

২০১৭ সাল নাগাদ তিনি বলেন, ‘অনশনের সময়ে খিদে পেলেই নেত্রী পিছনে চলে যেতেন। ফিশ ফ্রাই খেতেন আর কথা বলাতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দিয়ে। বুঝুন, কেমন মাল! কী যন্তর!’ সেই সময় মমতার বারবার ফোন নম্বর বদল নিয়েও আক্রমণ করেন গৌতম। তাঁর কথায়, ‘ক্রিমিনাল বেন্ট অব মাইন্ড! নইলে কেউ এ রকম করে?‘

যদিও মমতাকে ‘মাল’ বলায় বিরাট হইচই শুরু হয়ে যায়। চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। তবে এরপরও যখনই সময় পেয়েছেন, তখনই তিনি মমতাকে করেছেন আক্রমণ। এমনকী বলেছেন যে তৃণমূল উঠে যাবে। আর তাঁর বলে দেওয়া চিত্রনাট্য অনুযায়ী আজ ভেঙে ছাড়খাড় তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে দলের রাশ। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন একদা সিপিআইএম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘বৃদ্ধ যোদ্ধার’ মতো এই দিকে নজর রেখেছন মমতা। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়।



