Monday, 14 September, 2026
14 September
HomeদেশCPI(M): ইন্ডি জোটের পিন্ডি গেল চটকে! বিজয়ন ইস্যুতে রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ...

CPI(M): ইন্ডি জোটের পিন্ডি গেল চটকে! বিজয়ন ইস্যুতে রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ সিপিএমের

দুপক্ষ একে অপরকে আক্রমণ শানাচ্ছে তাতে জাতীয় রাজনীতিতেও কংগ্রেস এবং বামেদের মধ্যে ফাটল আরও চওড়া হতে পারে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

পশ্চিমবঙ্গ, কেরলসহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর গত আট জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য এখন বিরোধী শিবিরের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। তীব্র ফাটল ধরেছে বাম-কংগ্রেসের সম্পর্কে।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পথে নামছেন রাহুল গান্ধী

শনিবার সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি এক্স পোস্টে মন্তব্য করেন, ‘রাহুল গান্ধীকে কেউ বলেনি পিনারাই বিজয়ানকে আলিঙ্গন করতে। তাঁকে বলা হচ্ছে, তিনি যেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে ইডি ও বিজেপিকে সহযোগিতা না করেন।’ বেবির আরও বক্তব্য, ‘লোকসভার বিরোধী দলনেতার কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ কাম্য নয়।’

প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন পিনারাই বিজয়নও। কেরলের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর প্রবীণ নেতা বিজয়ন শনিবার বলেছেন, ‘আমি দেখলাম রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলিঙ্গন করছেন। এটা কি তার মতো নেতার কাছ থেকে কাম্য?’ প্রসঙ্গত রাহুল ২০১৪ সালে লোকসভার অধিবেশন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলিঙ্গন করে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি এবং কংগ্রেস ঘৃণার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বিরোধীদেরও আলিঙ্গন করতে তাঁদের মধ্যে কোন কুন্ঠা নেই।

আলিঙ্গন নিয়ে বিবাদ চলতি বিবাদের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইন্ডি জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য। কংগ্রেস নেতার ভাষণের একাংশের অডিও ফাইল পরদিন প্রকাশ করে হাত শিবির। ওই বৈঠকে রাহুল কেরলে সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের বিরুদ্ধে প্রচারে কংগ্রেস ও তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগ করেন। রাহুল সিপিএমের অভিযোগ খণ্ডন করতে গিয়ে নিশানা করেন বৈঠকে অনুপস্থিত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে। রাহুল বলেন, বিজয়নকে আলিঙ্গন করতে নিষেধ করার অর্থ এটাই যে তাঁকে এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে তিনি যেন ইডি, সিবিআই এবং বিজেপিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সহযোগিতা না করেন। প্রসঙ্গত কেরলে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ক’দিন পরেই সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দুটি বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালায়। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় কংগ্রেস। অন্যদিকে সিপিএম ক্যাডারদের আক্রমণের মুখে তল্লাশি অভিযান স্থগিত রেখে ফিরে যেতে হয় ইডি অফিসারদের।

কেরলে এবার বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস। সিপিএমের অভিযোগ কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের মদতে বিজয়নের বাড়িতে তল্লাশি চালাই ইডি। কংগ্রেসের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে বিজয়ন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজস  করে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করেছেন।

ইন্ডি জোটের বৈঠকে রাহুলের কেরল প্রসঙ্গ উদযাপনের কারণ ছিল এমএ বেবির একটি চিঠি। বৈঠকের আগের দিন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক তথা কেরলের নেতা বেবি ওই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে চিঠি পাঠান।

বৈঠকে রাহুল চিঠির প্রসঙ্গ না তুলে বিজয়নের নাম করে তাঁর তীব্র সমালোচনা করেন। রাহুলের ওই বক্তব্যের অডিও ফাইল শুক্রবার প্রকাশ করে কংগ্রেস। এইভাবে জোটের বৈঠকের অডিও ফাইল প্রকাশ করা সমীচীন কিনা তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘সায়নি লাগাও’; তৃণমূলকে ‘TATA BYE BYE’ মানস ভুঁইয়ার

রাহুলের সেদিনের বৈঠকের জবাবে শনিবার মুখ খোলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক বেবি এবং কেরলের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, যেভাবে দুপক্ষ একে অপরকে আক্রমণ শানাচ্ছে তাতে জাতীয় রাজনীতিতেও কংগ্রেস এবং বামেদের মধ্যে ফাটল আরও চওড়া হতে পারে।

ইন্ডি জোটের বৈঠকে বামেদের তরফে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের একতরফা বিজয়ের সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেখানে ডিএমকে’র  নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক ছিল বাম কংগ্রেস। কিন্তু কংগ্রেস কোনরকম আলোচনা ছাড়াই বিজয়ের দলকে সরকার গড়তে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। হাত-শিবিরের পাঁচ বিধায়কের সমর্থনের বিনিময়ে তারা মন্ত্রিসভায় দুটি পদ আদায় করতে পেরেছে। রাহুল গান্ধী অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে মোটেই অন্যায্য বলে মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির প্রশ্নে কংগ্রেস আপসহীন। তামিলনাড়ুতে যাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে বকলমে বিজেপি সরকার চালাতে না পারে সেজন্যই কংগ্রেস বিজয়ের সরকারকে সমর্থন দিয়েছে।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন