গুয়াহাটি:
অসমের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে গেলেও সার্বিক চিত্র এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় রাজ্যে চলতি বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ। যদিও জল কিছুটা নামায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কমে বর্তমানে ৩ লক্ষ ৩২ হাজারে নেমে এসেছে বলে বুধবার সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মৃতদের পরিবার পিছু এককালীন আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ৯ লক্ষ টাকা করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
আরও পড়ুনঃ হায় রে; উত্তাল যখন সংসদ, বৃষ্টি উপভোগের রিল পোস্ট সায়নীর! রিলস বানাতেই কি সংসদে পাঠানো হয়েছে?
ক্ষতিগ্রস্ত জেলা ও সামগ্রিক চিত্র: বর্তমানে অসমের ৭টি জেলা—শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও ও কামরূপ মেট্রোপলিটন মারাত্মকভাবে বন্যাকবলিত।
-
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত: চরাইদেও জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার মানুষ প্লাবিত। এর পরেই রয়েছে শিবসাগর (৯৭,০৭৪ জন) এবং যোরহাট (৫৭,৩৭১ জন)। সম্প্রতি শিবসাগরেই ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
-
কৃষি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি: প্রায় ৪৫,৩৪১.৯৮ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। এছাড়া বহু বসতবাড়ি, গোয়ালঘর, স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ: রাজ্যে বর্তমানে ৮১টি ত্রাণ শিবিরে ৩২,৪৭৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র থেকে জরুরি সামগ্রী বণ্টন করা হচ্ছে। সেনা, বায়ুসেনা, NDRF, SDRF, দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
-
জরুরি মোবাইল পরিষেবা: শিবসাগরের বন্যাকবলিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ‘ইন্ট্রা-সার্কেল রোমিং’ (Intra-Circle Roaming) চালু করা হয়েছে, যাতে যেকোনো নেটওয়ার্কের সাহায্যে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়।
-
শিশুদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ: ত্রাণ শিবিরে থাকা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে তাদের জন্য আলাদাভাবে পড়ালেখা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে এইডসের সংক্রমণ! সতর্ক হোক আধুনিক জীবন, সতর্ক হোন আপনি
রাজ্য সরকারের বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ও ত্রাণ ঘোষণা: দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিপূরণের নিয়ম শিথিল করে দ্রুত আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম সরকার: ১. মৃত্যু ও নিখোঁজ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ: বন্যায় মৃতের পরিবারকে দেওয়া স্বাভাবিক ৪ লক্ষ টাকার অনুদানের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকা যোগ করে মোট ৯ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া বন্যায় নিখোঁজ কোনো ব্যক্তির দেহ ১ মাসের মধ্যে উদ্ধার না হলেও তাঁর পরিবার একই পরিমাণ সাহায্য পাবে। ২. জরুরি গৃহস্থালি ভাতা: সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলা—শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট ও গোলাঘাটের গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অন্তর্বর্তীকালীন ১৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ৩. শিক্ষার্থীদের জন্য সাহায্য: শিবসাগর ও চরাইদেও জেলার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হবে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের বই কেনার জন্য আলাদা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।


