বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জের। আগামী কয়েক দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা প্রবল। শনিবার স্পেশাল বুলেটিনে বিশেষ সতর্কবার্তা দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশের ওপর ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছিল। তার প্রভাবেই উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন অঞ্চলে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। এই নিম্নচাপের সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯.৪ কিলোমিটার ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি আরও শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদরা। এর প্রভাবেই ২৫ থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় একনাগাড়ে ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ২০ সেমি) দাপট বজায় থাকবে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলেছে মরশুমের সবচেয়ে শক্তিশালী নিম্নচাপ!
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপ ক্রমশ আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে। বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব:
উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিমি বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া, দমকার বেগ সর্বোচ্চ ৭০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
উপকূলবর্তী জেলা ও সংলগ্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
সমুদ্র ক্রমশ উত্তাল হওয়ায় মৎস্যজীবীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করা হচ্ছে।
যেসব জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি:
পূর্ব মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুর
ঝাড়গ্রাম
পুরুলিয়া
বাঁকুড়া
দক্ষিণ ২৪ পরগনা
বিশেষ করে উড়িষ্যা ও ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকবে।
আরও পড়ুনঃ শয্যাশায়ী ছোট্ট অর্কজিত, দরকার ৯ কোটির ইঞ্জেকশন! চিকিৎসায় পথে নামছে শহর
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা: কলকাতা এবং আশপাশের অঞ্চলে মেঘ, বৃষ্টি ও রোদের লুকোচুরি চলতে পারে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও স্থানীয়ভাবে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সতর্ক থাকুন আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলুন এবং আমাদের পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখুন।


