পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ শিল্পে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। দেশের জনপ্রিয় দুগ্ধজাত পণ্যের ব্র্যান্ড আমূল হাওড়ায় তার ৭০০ কোটি টাকার বিশাল প্রকল্পের শিলান্যাস করতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। সাংকরাইল ফুড পার্কে অবস্থিত এই কারখানাটি শুধু বাংলার দুধ উৎপাদকদের জন্য নয়, পুরো পূর্বাঞ্চলের দুগ্ধ শিল্পকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ইন্ডি জোটের পিন্ডি গেল চটকে! বিজয়ন ইস্যুতে রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ সিপিএমের
গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (জিসিএমএমএফ)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়েন মেহতা জানিয়েছেন, প্রকল্পটিতে ১৫ একর জমি বরাদ্দ হয়েছে। এই কারখানা প্রতিদিন ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে প্রতিদিন ১০ লক্ষ কেজি দই, মিষ্টি দই, ইয়োগার্ট, লস্যি ও ছাছ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকবে এখানে। এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দই উৎপাদনকারী ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমূলের।
স্থানীয় কৃষক ও দুধ উৎপাদকদের জন্য এই প্রকল্প এক বড় সুযোগ। বর্তমানে বাংলায় দুধের উৎপাদন যথেষ্ট হলেও আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের সুযোগ সীমিত। আমূলের এই কারখানা চালু হলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য দামে দুধ বিক্রি করতে পারবেন। সেইসঙ্গে তৈরি হবে শত শত সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান। ঠান্ডা চেইন, প্যাকেজিং, ট্রান্সপোর্টেশন, মার্কেটিং একাধিক খাতে যুবক-যুবতীরা কাজের সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পথে নামছেন রাহুল গান্ধী
হাওড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও দুধ ব্যবসায়ী রতন দাস বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে এমন একটা বড় কারখানার অপেক্ষায় ছিলাম। দুধের দাম নিয়ে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। আমূল এলে সবকিছু সংগঠিত হবে, দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং আমরা নিশ্চিন্তে দুধ দিতে পারব।” অনেক কৃষক মনে করছেন, এই প্রকল্প বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
আমূল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানাটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি হবে। পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া, উন্নত মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের উপর জোর দেওয়া হবে। বিশেষ করে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দইকে আধুনিক প্যাকেজিংয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বাংলার দুগ্ধজাত পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ হবে।


