কুশল দাসগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
সদ্য অবৈধ বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঘিরে বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। সীমান্তে কাঁটাতার ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। এরই মাঝে আলাদা করে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক এলাকার নিরাপত্তা আটোসাঁটো করতে উদ্যোগ নিয়েছে বিএসএফ। আর তার জন্যই এবার আন্ডারওয়াটার সেন্সর বা জলের তলায় সেন্সর বসানোর পদক্ষেপ করা হয়েছে সীমান্তে চিকেন নেক লাগোয়া নদীপথে।
আরও পড়ুনঃ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, বদলে যাচ্ছে কলকাতার রাস্তার নাম; ‘রক্তমাখা ইতিহাস’ মুছে দিল কলকাতা পুরসভা
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক সংলগ্নপ্রতিটি নদীতে কড়া নিরাপত্তায় এবার ময়দানে নামানো হল আন্ডারওয়াটার সেন্সর। নদীপথে যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশ না হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ বিএসএফর। এদিকে, মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণবঙ্গের হলদিয়ার নদীপথ সংলগ্ন দ্বীপ এলাকা নয়াচর ঘিরেও বে-আইনিভাবে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করে এবং জলপথে এলাকায় ঢুকে পড়া দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে নেমেছে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা প্রশাসন। তারই মাঝে এল চিকেনস নেক নিয়ে এই বড় খবর। তিস্তা, আত্রেয়ী, গঙ্গার মতো নদীতে নজরদারি চালানোর জন্য সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ ড্রোন, আন্ডারওয়াটার সেন্সর, এবং থার্মাল ইমেজারের সাহায্য নিচ্ছে। নদীতে সাঁতার কেটে কেউ সীমান্ত পার করে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের গতিবিধি জানতে আন্ডারওয়াটার সেন্সর কাজে লাগানো হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ছে জল্পনা! কি থাকবে স্বপন দাশগুপ্তর ফাইলে
উল্লেখ্য, শুরু হয়েছে বর্ষার মরশুম। এরফলে বহু নদীতেই জল বাড়তে শুরু করেছে বৃষ্টির জেরে। এমন মরশুমে অনুপ্রবেশ ছাড়াও গবাদি পশু, মাদক চোরাচালানের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রে মনে করা হচ্ছে। ফলত শুধু নদীই নয়, নদীর চর এলাকাতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
প্রসঙ্গত, স্থলে থাকা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বরাবর নজরদারি চললেও, জলপথে নজরদারি বর্ষায় বেশ কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের একটা বড় অংশের মধ্যে প্রবল বহু নদী রয়েছে যেমন, তেমনই বহু জলাজমিও রয়েছে। অনেক সময় বন্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়া ক্ষতির মুখে পড়ে। অন্যদিকে, নদীপথে বর্ষায় স্পিডবোটে সর্বত্র নজরদারি সম্ভব নয়। আর বর্ষার দুর্যোগকে হাতিয়ার করে দুষ্কৃতি, চোরাচালকারী ও অনুপ্রবেশকারীরা সক্রিয় হয়ে থাকে, বলে জানা যাচ্ছে। সেই কারণেই অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে চলবে নজরদারি। নিখুঁত নজরদারিতে থার্মাল ইমেজার, ড্রেন মোক্ষম হাতিয়ার! এছাড়াও সীমান্তের এলাকা বর্ষার জলে প্রভাবিত হলে, ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্ট খোলারও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।


