Thursday, 25 June, 2026
25 June
Homeআন্তর্জাতিক নিউজGoogle: ভেনিজুয়েলার মাটি কেঁপে ওঠার আগেই বিপদবার্তা পাঠিয়েছিল Google!

Google: ভেনিজুয়েলার মাটি কেঁপে ওঠার আগেই বিপদবার্তা পাঠিয়েছিল Google!

মানুষের আগে Google কম্পন অনুভব করে

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

পর পর তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনিজুয়েলা। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। কিছু বুঝে ওঠার আগে চোখের সামনে শেষ হয়ে গিয়েছে সবকিছু।

জানা গিয়েছে, মাটি কেঁপে ওঠার কয়েক সেকেন্ড আগেই অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Google-এর তরফে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। থরথর করে কেঁপে ওঠে ফোন।

আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, ভূমিকম্পের জানান যখন আগেভাগেই দিয়ে দিচ্ছে, তাহলে কি ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব? প্রযুক্তি কি প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে?

প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একবাক্যে হ্যাঁ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্তাবলী প্রযোজ্য। কারণ Google সরাসরি ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না। বরং কিছু লক্ষণ দেখে মানুষকে সতর্কবার্তা পাঠায়।

আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন তাণ্ডবের সাক্ষী কলকাতা, পরপর বজ্রপাতে অস্থির কলকাতা; কলকাতা ও লাগোয়া শহরতলিতে জারি করা হল লাল সতর্কতা

আধুনিক স্মার্টফোনগুলিতে অ্যাক্সেলেরোমিটার থাকে, যা আসলে একধরনের সেন্সর। আড়াআড়ি ভাবে যখন ফোন ধরি আমরা, আপনাআপনি ফোনের স্ক্রিনও আড়াআড়ি ঘুরে যায়। অ্যাক্সেলেরোমিটারের দৌলতেই তা সম্ভব হয়।

এই অ্যাক্সেলেরোমিটারের আরও ব্যবহার রয়েছে। সেটি কম্পন শনাক্ত করতে পারে, তা পরিমাপও করতে পারে। তাই স্মার্টফোন যখন ভূমিকম্পের তীব্রতার সমান শক্তিশালী কম্পন শনাক্ত করে, Google-এর অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেমে সঙ্কেত পাঠিয়ে দেয়। ঠিক কোথায় কম্পন ঘটতে পারে, তার আনুমানিক লোকেশনও জানিয়ে দেয় সেটি।

এক সঙ্গে অনেক স্মার্টফোনের অ্যাক্সেলেরোমিটারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য একত্রিত করে এর পর Google-এর সার্বার তথ্য যাচাই করে দেখে। কোনও একটি এলাকা থেকে একাধিক স্মার্টফোন যদি সঙ্কেত পাঠায়, সেই কম্পনের ধরন যদি একউ রকমের হয়, তাহলে ভূমিকম্প হচ্ছে বলে বুঝতে পারে Google. সেই মতো সতর্কবার্তা পাঠানো হয় ফোন ব্যবহারকারীদের।

কিন্তু মানুষের আগে Google কী করে কম্পন অনুভব করে? এক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে, ভূমিকম্প সামান্য ঝাঁকুনি নয়। তরঙ্গের আকারে ছড়িয়ে পড়ে কম্পন। প্রাথমিক বা পি তরঙ্গের গতি সেকেন্ডে প্রায় ছয় কিলোমিটার। সেকেন্ডারি বা এস তরঙ্গের গতি সেকেন্টে ৩-৪ কিলোমিটার। তবে এস তরঙ্গই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিসাধন করে। অর্থাৎ পি তরঙ্গ শনাক্ত করে ভূমিকম্প আসছে বলে বুঝতে পারে স্মার্টফোন। দ্রুত সার্ভারের কাছে তথ্য় পাঠিয়ে দেয় সে। আলোর গতিতে ওই তথ্য় পৌঁছে গেলেও, অন্য ফোনের সঙ্গে তথ্য় মিলিয়ে দেখতে গিয়ে বেশ খানিকটা সময় অতিবাহিত হয়।

আরও পড়ুনঃ বিচ্ছিন্ন সিকিম-কালিম্পং, ভয়াবহ ধস সেবকে; বন্ধ জাতীয় সড়ক NH 10

আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ২,৯৯,৭৯২ কিলোমিটারের সামান্য বেশি, যা ভূমিকম্পের গতির চেয়ে অনেকটাই বেশি। তাই ভূমিকম্পের উৎসস্থল যদি নাগরিকের অবস্থানের চেয়ে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে হয়, তাহলে কম্পন পৌঁছনোর আগে পরিস্থিতি অনুধাবন করে সতর্কবার্তা পাটিয়ে দেবে Google সার্ভার।

ভূমিকম্পের তীব্রতার নিরিথে অ্যান্ড্রয়েডে দুই ধরনের অ্য়ালার্ট ব্যবস্থা রয়েছে, ১) Be Aware Alert, অর্থাৎ আগাম সতর্কতা, ২) Take Action Alert, অর্থাৎ মাঝারি বা তীব্র কম্পনের আগে সুরক্ষিত থাকার, নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ করার অ্যালার্ট। দু’টিতে আঙুল ছোঁয়ালেই ভূমিকম্পের সময় কী করণীয়, কী ভাবে বিরাপদ থাকা সম্ভব, তার উপায় লেখা থাকে। পাশাপাশি মানচিত্রও দেওয়া হয়, যাতে ভূমিকম্পের অবস্থান এবং তীব্রতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

২০২৩ সাল থেকে অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম ভারতে সক্রিয়। অ্যান্ড্রয়েড ৫ এবং তার পরবর্তী সংস্করণের ফোনগুলিতে ওই ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অ্যালার্ট পেতে হলে ওয়াইফাই বা ডেটা অন রাখা জরুরি। আবার না চাইলে ফোনের সেটিংয়ে গিয়ে অ্যালার্ট বন্ধও করে দেওয়া সম্ভব।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন