Wednesday, 1 July, 2026
1 July
HomeকলকাতাKolkata: হাজার হাজার রাঁধুনির পেটে লাথি? ইসকনের হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব যেতেই...

Kolkata: হাজার হাজার রাঁধুনির পেটে লাথি? ইসকনের হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব যেতেই কাজ হারানোর আশঙ্কা

‘ইসকন’ বিতর্কে ক্ষোভের আগুন

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের জেরে এবার রাজপথে নামলেন মিড-ডে মিল কর্মীরা। সরকারি কর্মীর স্বীকৃতি, ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা বেতন এবং সামাজিক নিরাপত্তার একগুচ্ছ দাবিতে বুধবার কলকাতার বুকে এক প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এআইইউটিইউসি (AIUTUC) অনুমোদিত ‘সারা বাংলা মিড-ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন’-এর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ মিছিলটি মঙ্গলবার শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন অংশ পরিক্রমা করে। মিছিলে শামিল হয়েছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ’য়ে শ’য়ে মিড-ডে মিল রাঁধুনি ও সহায়িকারা।

বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে স্কুলপড়ুয়াদের মুখে খাবার তুলে দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের চরম অবহেলা করা হচ্ছে। অবিলম্বে তাঁদের ‘স্কিম ওয়ার্কার’ বা অস্থায়ী তকমা ঘুচিয়ে সরকারি কর্মচারীর স্বীকৃতি দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ অপরূপার বিরুদ্ধেও FIR; পুলিশের গায়ে হাত

আন্দোলনের মূল দাবিদাওয়া একনজরে:

মিড-ডে মিল কর্মীদের পূর্ণ সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দিতে হবে এবং প্রতি মাসে ন্যূনতম ১৫,০০০ টাকা মজুরি সুনিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে বছরে ১০ মাসের ভাতা দেওয়া হয়, যা বন্ধ করে পূর্ণ ১২ মাসের বেতন দিতে হবে।

প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF), পেনশন সুবিধা, বার্ষিক বোনাস এবং অবসরকালীন ভাতার স্থায়ী বন্দোবস্ত করতে হবে।

ইসকনবিতর্কে ক্ষোভের আগুন

নবগঠিত রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে যে, কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের রান্না ও সরবরাহের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্থা ‘ইসকন’-এর হাতে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এবার সরাসরি তোপ দেগেছেন আন্দোলনকারী কর্মীরা।

কর্মী সংগঠনের নেতাদের স্পষ্ট অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলিতে দীর্ঘকাল ধরে যে সমস্ত গরিব মহিলারা রান্নার কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ইসকনের হাতে দায়িত্ব চলে গেলে তাঁদের জীবিকা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বহু রাঁধুনি কাজ হারিয়ে চরম সংকটের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, “আমরা বছরের পর বছর ধরে নামমাত্র ভাতার বিনিময়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের জন্য রান্না করেছি। এখন কর্পোরেট বা বড় সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে আমাদের পেট কাটার চক্রান্ত চলছে। ইসকন এলে হাজার হাজার স্থানীয় রাঁধুনি কাজ হারাবেন। পাশাপাশি, সেন্ট্রালাইজড কিচেন বা কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে খাবার সরবরাহ করা হলে, পড়ুয়ারা কতটা তরতাজা এবং গরম খাবার পাবে, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন থাকছে।”

আরও পড়ুনঃ আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় নরওয়ে; প্রতিপক্ষ ব্রাজিল

রাজপথে তীব্র যানজট, অনড় আন্দোলনকারীরা

মঙ্গলবার শিয়ালদহ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলের জেরে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মৌলালি এবং এজেসি বোস রোডের একাংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় কলকাতা পুলিশকে।

আন্দোলনকারীদের সাফ হুঁশিয়ারি, যদি অবিলম্বে রাজ্য সরকার ও পুর প্রশাসন তাঁদের কাজ রক্ষার লিখিত নিশ্চয়তা না দেয় এবং বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা না করে, তবে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে স্কুল স্তরে মিড-ডে মিল বয়কট সহ আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন