দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী (Baruipur)এক নাবালিকার নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজ থাকার পর ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার জেরে বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এবং রেল অবরোধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘মোমবাতি মিছিলের কভারেজ হবে তো?’ প্রশ্ন কুনালের
পুলিশ তদন্ত শুরু করে ইতিমধ্যেই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। একই সঙ্গে গণপিটুনিতে আহত এক সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন একজন দোষীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে নাবালিকার খোঁজে তল্লাশি চলছিল। পরে তার দেহ উদ্ধার হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। কিছু জায়গায় রেল ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে, যার ফলে সাময়িকভাবে জনজীবন ব্যাহত হয়।
তদন্ত চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দারা ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামে এক সন্দেহভাজনকে ধরে গণধোলাই দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য এক সন্দেহভাজনকে স্থানীয়রাই আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ আরও একজনকে গ্রেফতার করে। ৫ জুলাই বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে চার জন গ্রেফতারের যে দাবি ছড়িয়েছে, তা পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী সঠিক নয়।
আরও পড়ুনঃ বারুইপুর-কাণ্ডে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ, পথে নামছেন বামপন্থীরা
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। ফরেনসিক প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধের পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর ভরসা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং আশ্বাস দেন যে, আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, পরিবারটিকে কলকাতার ভবানী ভবনে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানান বলেও জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের তরফে মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।


