ভক্তদের আবেগ ও ঐতিহ্যের বড়মা মন্দিরকে কেন্দ্র করে এবার তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক দানা বাঁধল নৈহাটিতে। বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মন্দির কমিটির ওপর জোর খাটানোর মারাত্মক অভিযোগ আনলেন খোদ বড়মা মন্দির কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য। সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি অভিযোগ করেন, নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাঝরাতে মন্দিরের গর্ভগৃহ খুলিয়েছিলেন সাংসদ। উদ্দেশ্য ছিল, বড়মার দরবারে নিজের জন্মদিনের পুজো দেওয়া এবং উদযাপন করা।
আরও পড়ুনঃ PM-কে আকাশ থেকে স্বাগত জানাল একাধিক যুদ্ধবিমান; ইন্দোনেশিয়া পৌঁছলেন মোদী
শাসক শিবিরের একাধিক দুর্নীতি ও অভ্যন্তরীণ বিবাদ নিয়ে যখন এমনিতেই শোরগোল চলছে, ঠিক সেই আবহে বড়মা মন্দিরের পবিত্রতা এবং এই তথাকথিত ‘ভিআইপি কালচার’ নিয়ে সম্পাদকের এই বিস্ফোরক দাবি বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে ঘৃতাহুতি দিল।
সাংবাদিক বৈঠকে শুধু সাংসদ পার্থ ভৌমিক নন, নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা মন্দির কমিটির প্রাক্তন সভাপতি অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তাপস বাবু। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একনায়কতন্ত্র চালিয়ে মন্দির কমিটিকে স্রেফ পুতুল বানিয়ে রাখা হয়েছিল।
সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, “উনি (পার্থ ভৌমিক) নিজের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি খাটিয়ে মাঝরাতে এখানে এসে জন্মদিন পালন করেছেন। মাঝরাতের অন্ধকারে একজন প্রভাবশালী নেতা এসে যখন চাপ দেন, তখন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মন্দির খোলা ছাড়া আর কী-ই বা করার থাকতে পারে? কমিটির বাকিদের কোনো স্বাধীনতাই ছিল না। আমরা স্রেফ পুতুল ছিলাম। প্রাক্তন সভাপতি অশোক চট্টোপাধ্যায়ের অঙ্গুলিহেলনেই মন্দিরের সমস্ত কাজকর্ম পরিচালিত হতো।”
নৈহাটির জাগ্রত বড়মা মন্দিরের নিজস্ব কিছু কঠোর নিয়ম এবং পুজোর সময়সূচি রয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ ভক্ত পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে চলেন। একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য রাতের বেলায় সেই মন্দিরের দরজা খোলার ঘটনা জানাজানি হতেই সাধারণ ভক্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নামতে দেরি করেনি বিরোধী শিবিরও। তারা সরাসরি শাসক দলের ‘অহংকার এবং ক্ষমতার দম্ভ’ নিয়ে তোপ দাগা শুরু করেছে।
এদিকে, এই প্রশাসনিক খবরদারি আর মুখ বুজে সহ্য করতে রাজি নন সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক হুমকির বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই লড়বেন। খুব শীঘ্রই ভাটপাড়া বা নৈহাটি থানায় প্রাক্তন পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক এফআইআর (FIR) দায়ের করতে চলেছেন তিনি। তবে এই সমস্ত মারাত্মক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংসদ পার্থ ভৌমিক বা অশোক চট্টোপাধ্যায়ের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত মেলেনি।


