কালীগঞ্জের একরত্তি শিশু তামান্না খাতুন হত্যা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সাহিবুল সেখের জামিনকে কেন্দ্র করে আদালতে দু’পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্বয়ং সিজেএম (CJM) তরুণ মণ্ডলকে এজলাসে উঠে দাঁড়িয়ে দু’পক্ষের আইনজীবীদের শান্ত করতে হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘কার্যত নজরবন্দী’ মমতা; গণপিটুনিতে নিহতের অটোতেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বারুইপুরের কিশোরীকে?
সওয়াল-জবাব চলাকালীন আসামী পক্ষের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ স্পেশাল পিপি বিভাষ চট্টোপাধ্যায় উত্তেজিত হয়ে বলেন, “সিনিয়রদের সম্মান দিন। আমার জুনিয়ররা তো কেউ এমন ব্যবহার করছে না!” এই তুমুল উত্তেজনার মধ্যেই সিজেএম তরুণ মণ্ডল ধৃত সাহিবুল সেখ-সহ ৬ জন অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন মোলান্দি গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের বিজয়োল্লাসের সময় বোমাবাজিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল একরত্তি তামান্না খাতুনের শরীর। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হলেও দীর্ঘদিন মূল অভিযুক্তরা অধরা থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল জনতা। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশ ও তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে দেওয়া ব্যক্তিগত আশ্বাসের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত ২৬ জুনের মধ্যে জেলাজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে এই মামলার ২৪ জন অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঝোড়ো অ্যাকশনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তামান্নার পরিবার।
এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সাহিবুল সেখ নাগপুরে কর্মরত ছিলেন। ২৬ জুন তাঁকে সেখান থেকে গ্রেপ্তারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে এনে ২৯ জুন ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। শনিবার মেয়াদ শেষে তাকে আদালতে তোলা হলে আসামী পক্ষের আইনজীবী সুবীর দেবনাথ পিএনআর (PNR) স্ট্যাটাস ও রেলের টিকিট দেখিয়ে দাবি করেন, ঘটনার দিন সাহিবুল এলাকায় ছিলেন না, তিনি রেল ভ্রমণ করছিলেন। এমনকি পুলিশ আগের তদন্তে তা দেখে সাহিবুলকে চার্জশিট থেকে বাদও (ডিসচার্জ) দিয়েছিল।
সুবীরবাবুর অভিযোগ, “সরকারি আইনজীবী সাহিবুলের জামিনের বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনো নথিপত্র দেখাতে পারছিলেন না, তিনি আদালতকে বিভ্রান্ত (মিসগাইড) করছিলেন। আমি সেটা ধরিয়ে দিতেই উনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।”
পাল্টা যুক্তিতে স্পেশাল পিপি বিভাষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আসামী পক্ষ জামিনের ভিত্তি হিসেবে আগে ডিসচার্জ হওয়া এবং রেলের টিকিটকে হাতিয়ার করতে চাইছে। কিন্তু এগুলো ট্রায়াল বা বিচারের সময় এভিডেন্সের বিষয়। আমাদের কাছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও অকাট্য সাক্ষী রয়েছে।” সরকারি আইনজীবী ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার আর্জি জানালে সিজেএম আদালত তাতে সম্মতি দেয় এবং সাহিবুলের জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৮ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে।


