বারুইপুরে গণপিটুনিতে মৃত যুবকের অটোয় করেই কি নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? এমনই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পরিবারের দাবি, শনিবার বিকেলে যখন বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে বেরিয়েছিল নাবালিকা, তখন তাকে চারজন তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে মেয়ের খোঁজ মিলছিল না। রবিবার সকালে সূর্যপুর হাট এলাকার একটি পুকুর থেকে দেহ উদ্ধার করা হয়। তারপরই উত্তাল হয়ে ওঠে বারুইপুর। নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর, গঠিত SIT
পরবর্তীতে পুলিশের আশ্বাসে কিছুটা শান্ত হয় পরিস্থিতি। ওঠে অবরোধ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নাবালিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন। ওই ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের দলই তদন্তভার সামলাবে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘মোমবাতি মিছিলের কভারেজ হবে তো?’ প্রশ্ন কুনালের
খুন-সহ ৩ মামলা দায়ের, ধর্ষণের ধারা যুক্ত করা হয়নি এখনও
পুলিশ সূত্রে খবর, বারুইপুরের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ারই বোঝা যাবে যে কীভাবে নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে বা যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছিল কিনা। সেই ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু করা হবে। তাছাড়াও পুলিশের উপর হামলা এবং গণপিটুনির ঘটনায় দুটি পৃথক-পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
মমতাকে আটকাতে কার্যত নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে, দাবি কালীঘাটের
তারইমধ্যে রবিবার রাতের দিকে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়, বারুইপুরে যেতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই থেকেই তাঁকে কার্যত নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। মমতা শিবিরের দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটকাতে তাঁর বাসভবনের সামনে প্রচুর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ফোনেই নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে মমতা কথা বলেছেন বলে দাবি করেছে তৃণমূল।

রবিবার সন্ধের পর আচমকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে বাড়ানো হয় পুলিশকর্মীর সংখ্যা। তৃণমূলের আইটি সেলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে ভিডিয়ো করা হয়। তারপরই শোরগোল পড়ে রাজনৈতিক মহলে। একের পর এক ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ নেতা-নেত্রী মমতার বাড়িতে আসেন। কেন পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নিশানা করেন বর্তমান সরকারকে। শেষ পর্যন্ত ফেসবুকে ভিডিয়ো বার্তায় মুখ খোলেন স্বয়ং মমতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তিনি বারুইপুরে যেতে চাওয়ায় তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে শোরগোল পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বলেন, “যখন থেকে ঘটনাটি শুনেছি, তখন থেকে আমি খুব উদ্বিগ্ন। আমি ভেবেছিলাম, তাদের পরিবারের কাছে আমি একাই যাব। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করব। তাদের কথা শুনে আসব। কিন্তু, দেখুন আমার বাড়ির সামনে রুটমার্চ হচ্ছে। প্রায় এক হাজার পুলিশ, সিআরপিএফ, আইবি, সিআইডি সবাই মিলে জমায়েত হয়েছে। আমাকে নাকি নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে শুনছি। মুখে না বললেও নাকি হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছে। এমন কী ঘটল যে আমার বাড়ির সামনে রুটমার্চ করতে হচ্ছে? আজকে তো আমি একা। তাহলে আমাকে নিয়ে এত ভয় কেন? আমি যেতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাদ বাকিটা উহ্য রাখছি।”
মমতার বাড়ির সামনে পুলিশকর্মী বাড়ানোর খবর পেয়ে আসেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি বলেন, “দিদিমণি বাড়িতে রয়েছেন। দিদিমণি লেখাপড়া করছেন। একটা পোস্ট হয়েছে তৃণমূলের তরফে। তাতেই আসমুদ্রহিমাচল কেঁপে উঠেছে।” মমতার বাড়িতে আসেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তিনি বলেন, “বারুইপুরে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। উনি যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। নজরবন্দি করে দিদিকে আটকাতে পারবে? কী ভাবছে? এত পুলিশ হঠাৎ এখানে কেন, এটা জেনে আমাকে আসতে হয়েছে। এটা ঠিক হচ্ছে না।” এক্স হ্যান্ডলে বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণে জিরো টলারেন্সের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
নাটক করছে তৃণমূল, দাবি বিজেপির
যদিও মমতাকে নজরবন্দী করে রাখার অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন যে ‘তৃণমূল নাটক করার চেষ্টা করছে এবং যেটা ইস্যু নয়, সেটাকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে। যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রিয় ব্যক্তিগত রক্ষীদের পরিবর্তে নয়া আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছিল, তখনও তৃণমূল প্রতিবাদ করেছিল। ওঁকে জেড-প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। যদি ওঁর বাড়ির বাইরে পুলিশ টহল দেয়, তাতে সমস্যাটা কোথায়? ওঁকে বা ওঁর দলকে কি প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে যে উনি বাড়ির বাইরে বের হতে পারবেন না?’
প্রসঙ্গত, বারুইপুরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।


