বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হতেই অবশেষে ভাঙা পড়ল ভাঙড়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলের বেআইনি সাম্রাজ্য। ক্যানিংয়ের মৌখালিতে মাতলা নদীর চর ও সরকারি জমি দখল করে বেআইনিভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল ‘অরণ্যের কূল’ নামের একটি ঝাঁ-চকচকে ক্যাফে। শওকত-পুত্র ইমরান মোল্লার এই ক্যাফেটি অবৈধভাবে নির্মাণ হয়েছিল বলে অভিযোগ পেতেই তা গুঁড়িয়ে দিতে গত ২৯ জুন পর্যন্ত ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানোয়, আজ সকালে সেখানে এসে পৌঁছায় বুলডোজার। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করার চরম মূল্য চুকিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয় গোটা ক্যাফেটি।
আরও পড়ুনঃ আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা! সৃষ্টি হতে চলেছে বর্ষার প্রথম গভীর নিম্নচাপ
অভিযান ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য সকাল থেকেই মৌখালি চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তার চাদরে। ক্যানিংয়ের এসডিপিও (SDPO)-র নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নদীমাতৃক সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূল বিধায়কের ছেলের এই বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ঘটনাটি বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুনঃ নতুন কায়দায় ট্রাম ছুটবে দক্ষিণেশ্বর টু কালীঘাট! ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রীর
শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের বেআইনি ক্যাফেতে চলল বুলডোজ়ার। মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনিভাবে ক্যাফে তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। সব নথি খতিয়ে দেখে ক্যাফে ভাঙার নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। তবে, সেই নির্দেশকে গুরুত্ব দেয়নি শওকত মোল্লা বা তাঁর ছেলে । এবার প্রশাসনের তরফেই বুলজোজ়ার চালিয়ে ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু হল। আজ ভোরেই ক্যাফের সামনে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তারপরই শুরু হয় ক্যাফে ভাঙার কাজ।
দিন কয়েক আগেই প্রশাসনের তরফে নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ২৯ তারিখের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে ক্যাফেটি। তা না হলে প্রশাসনই বুলডোজার চালাবে। প্রশাসনের নির্দেশের পর দেখা যায়, ওই ক্যাফে থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও ক্যাফে ভাঙা হয়নি। তাই প্রশাসনই ওই ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু করে আজ। ভোরেই সেখানে পৌঁছে যান প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বুলডোজার দিয়ে প্রথমে ভাঙা হয় ক্যাফের গেট। তারপর একে একে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ক্যাফের ভিতরের ‘সাজানো বাগান’।


