রাস্তার বাঁ-দিক ঘেঁষে ট্রাম চালানো হবে বলে জানালেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। বুধবার কলকাতায় একটি বণিক গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে পরিবহণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, ট্রাম যদি রাস্তার মাঝখান দিয়ে চালানো হয়, তাহলে অন্যান্য যান চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। দুর্ঘটনারও আশঙ্কা থাকে। সেই পরিস্থিতিতে রাস্তার বাঁ-দিক ঘেঁষে ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সল্টলেক এবং নিউ টাউনে ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা আছে। কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বর রুটেও ট্রাম চালানোর বিষয়টি ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। তবে আপাতত উত্তরবঙ্গে ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ হল না শেষরক্ষা! গ্রেপ্তার বাগুইআটির ত্রাস দেবরাজ চক্রবর্তী
কালীঘাট–দক্ষিণেশ্বর রুটের সময় বিশেষ পরিকল্পনা
কালীঘাট এবং দক্ষিণেশ্বর মন্দিরকে যুক্ত করা যে ট্রাম চলবে, সেটা মূলত পর্যটনের দিকে তাকিয়ে করা হচ্ছে বলে পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর। বুধবার বণিকসভার অনুষ্ঠানে পরিবহণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, এসি ট্রাম চালানো হবে সেই রুটে। তাছাড়াও সার্বিকভাবে বিদেশের ধাঁচে ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের পরিবহণ মন্ত্রী।
বহুদিন ধরেই মহানগরের ট্রাম পরিষেবার পুনরুজ্জীবন নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। তবে বর্তমান সরকারের এই নতুন উদ্যোগ শহরের ট্রামপ্রেমীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে। পরিবহণমন্ত্রী জানান, এই রুটে সাধারণ ট্রাম নয়, বরং সম্পূর্ণ আধুনিক এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) ট্রাম চালানো হবে। শুধু তাই নয়, কলকাতার পাশাপাশি সল্টলেক, নিউটাউন এবং রাজারহাটের বুকেও ট্রাম ছোটানোর বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য।
শহরের রাস্তায় ট্রামের কারণে যানজট তৈরি হয়— দীর্ঘদিন ধরে ওঠা এই অভিযোগ মেটাতে এবার এক অভিনব কৌশল নেওয়া হচ্ছে। অর্জুন সিং স্পষ্ট করেছেন, নতুন এই ট্রামগুলি রাস্তার মাঝখান দিয়ে নয়, বরং রাস্তার একেবারে বাঁদিক ঘেঁষে চলাচল করবে। এর জন্য নতুন করে ট্রামলাইন পাতার কাজও খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। বিদেশের ধাঁচে তৈরি এই ট্রামগুলি চলবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি প্রযুক্তির সাহায্যে, যার ফলে একদিকে যেমন দূষণ কমবে, অন্যদিকে বাঁচবে জ্বালানিও।
কলকাতার এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক উপায়ে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। শহরের কোন কোন রুটে কীভাবে ট্রাম চালানো সম্ভব, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘রাইটস’ (RITES)-কে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে সেই সার্ভের কাজ।
পরিবহণ দপ্তরের আশা, দক্ষিণেশ্বর এবং কালীঘাটের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান ট্রামলাইনের মাধ্যমে জুড়ে গেলে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের যাতায়াত যেমন অনেক সহজ হবে, তেমনই কলকাতার বুকেও তৈরি হবে এক নতুন আকর্ষণ।
আরও পড়ুনঃ শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড; মন কাড়ল কঙ্গো
নয়া সরকারি বাস নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে
তারইমধ্যে বুধবার সরকারি বাস নিয়েও পরিবহণ মন্ত্রী মুখ খুলেছেন। সেই রেশ ধরে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত সরকারি বাস নেই। মাসচারেক আগে ৬০টি বাস আনা হয়েছিল। সেগুলি এখন পুরোদমে চালানো হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে নতুন করে ৪৭০টি বাস রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে সরকার। সেইসঙ্গে পরিবহণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, ই-বাসের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চার্জিং পয়েন্টের অভাব আছে। সেই সমস্যা পুজোর আগেই মিটিয়ে ফেলার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী।


