প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া থেকে তাঁকে আটক করার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ! জমি খুঁজছে প্রশাসন
তদন্তকারী সংস্থা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, কোন মামলার প্রেক্ষিতে বা কী অভিযোগে এই গ্রেপ্তারি হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেবরাজ চক্রবর্তী বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় এলাকায় বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দলের একাধিক সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা কতটা সক্রিয় ছিল, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ একটার পর একটা ধেয়ে আসছে…! কালীগঞ্জে বৈঠকের মাঝেই আক্রান্ত মহুয়া
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা দেবরাজের সঙ্গে বাঘমুণ্ডি ও অযোধ্যা পাহাড় এলাকার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ভাল যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্র ধরে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, দেবরাজ সেখানেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। এর পরেই একটি বিশেষ টিম তৈরি করে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেবরাজের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কেষ্টপুরের প্রোমোটার। বিধাননগর এলাকায় সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমির বেআইনি কারবার এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাতেও তিনি অন্যতম অভিযুক্ত। এর আগে হাইকোর্ট তাঁকে আইনি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারে তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন দিলেও সবদিক বিবেচনা করে দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল উচ্চ আদালত। তারপর থেকেই তাঁর গ্রেফতারির আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছিল।


