রাজ্যে পালাবদলের পরই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে নেওয়া হল বড়সড় পদক্ষেপ ৷ এইমস, আইআইটি ও আইআইএম গড়তে জমি খুঁজছে রাজ্য প্রশাসন ৷ দার্জিলিং জেলার প্রথম দিশা কমিটির বৈঠকে নেওয়া হল আরও একাধিক সিদ্ধান্ত ৷
উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভোলবদল এবং আসন্ন বর্ষায় বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত হল একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক । দার্জিলিং জেলার ইতিহাসে এই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হল ‘জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটি’ তথা ‘দিশা’-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক । এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ জেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা । কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক এবং পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় ।
আরও পড়ুনঃ মেগা কেলেঙ্কারি ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরেও; তোলপাড় রাজ্য
রাজ্যের পরিবহণ ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে উত্তরবঙ্গে এইমস, আইআইটি, আইআইএম এবং একটি ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে । এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির একেকটিতে প্রায় 100 থেকে 150 একর জমির প্রয়োজন । মূলত মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ি এলাকার রুগ্ন বা বন্ধ চা বাগান এবং সরকারি খাস জমিকে এই কাজের জন্য চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে । বাগডোগরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং বিমান যোগাযোগের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই বিমানবন্দরের কাছাকাছি এই সমস্ত জাতীয় স্তরের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ।”
এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের জমির পাট্টা না-পাওয়ার সমস্যা মেটাতে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । অনগ্রসর ও আদিবাসী পরিবারদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে দ্রুত এসসি বা এসটি সার্টিফিকেট ইস্যু করার বিষয়ে প্রশাসনকে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে । এছাড়া গরিব মানুষের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার কড়া নিয়ম শিথিল করার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে ।
অন্যদিকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এই প্রথম দিশা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করে জানান, 2016 সালের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রক এই ‘দিশা’ কমিটি চালু করেছিল । এর মূল উদ্দেশ্য হল, জেলা স্তরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন, সঠিক পর্যবেক্ষণ এবং গতি আনা ।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বিজেপি সাংসদ থাকা এলাকাগুলিতে এই ধরনের পর্যবেক্ষণ কমিটিগুলির কাজ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল, যার ফলে কোনও জবাবদিহি ছাড়াই হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন তহবিল নয়ছয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল । তবে বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার রাজ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ।”
আরও পড়ুনঃ ৮৬ নট-আউট ‘তরুণ’; বঙ্গ রাজনীতির মহীরূহ বিমান; জন্মদিনের শুভেচ্ছা
সাংসদ আরও উল্লেখ করেন, দিশা কমিটির মাধ্যমে 20টি মন্ত্রকের অধীনে থাকা 42টিরও বেশি কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেমন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএমজিএসওয়াই, আম্রুত প্রকল্প, হর ঘর জল, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ও আইসিডিএস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে, যা গ্রামীণ পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করবে ।
বর্ষার মরশুমে উত্তরবঙ্গের নদী ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি রুখতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন । প্রধান নদীগুলির দু’ধারে থাকা জনবসতিকে সুরক্ষিত রাখতে সেচ দফতরকে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে এবং আগেভাগেই এনডিআরএফ টিমকে সম্পূর্ণ সক্রিয় ও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ।
নদী ভাঙন রুখতে ও রাজস্ব ক্ষতি আটকাতে বালাসন নদী-সহ বিভিন্ন নদীর অবৈধ বালি ও পাথর খনন এবং বেআইনি মাইনিং বন্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন । বর্ষার কারণে আগামী তিন মাস নদী থেকে সমস্ত ধরনের বালি ও পাথর তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে । সামান্য বৃষ্টিতেই মাটিগাড়া সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় যে জলমগ্ন বা ভাঙন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের একটি পৃথক ও জরুরি বৈঠক খুব শীঘ্রই ডাকা হবে ।


