‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে দুর্নীতি ও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, হাতুড়ে ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের দিয়ে আধুনিক চিকিৎসা করানো, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার, জোর করে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য শিবিরে নিয়ে এসে ভিড় বাড়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা সংশ্লিষ্টদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ প্রণামী বাক্স নিয়ে পানিহাটিতে বিতর্ক, অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন বিধায়কের স্বামী
জানা গিয়েছে, অভিযোগপত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার, সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক, পঞ্চায়েত সদস্য এবং সেবাশ্রয় শিবিরে যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, গোটা স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্পে একাধিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের অভিযোগ, সেবাশ্রয়ের নামে ডায়মন্ড হারবারের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য শিবিরে এমন বহু ব্যক্তি চিকিৎসা করেছেন, যাঁদের আধুনিক চিকিৎসা করার বৈধ অনুমতি ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, হোমিওপ্যাথি ও অন্যান্য বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকেরা আধুনিক চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন লিখেছেন। এমনকি কয়েকজনের কোনও বৈধ মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন নম্বরও ছিল না বলে অভিযোগ।
নিজের দাবির সমর্থনে একটি প্রেসক্রিপশনও সামনে এনেছেন অভিজিৎ দাস। তাঁর বক্তব্য, ওই প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম ও বয়স থাকলেও রোগের কোনও বিবরণ লেখা নেই। শুধু ‘রেফার্ড টু হসপিটাল’ উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও অনুপস্থিত। তাঁর দাবি, এটি চিকিৎসা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিবিরে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি) করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। এছাড়া সেবাশ্রয়কে সফল দেখানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে বা প্ররোচিত করে শিবিরে নিয়ে যাওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতেই এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া শিবিরে বিতরণ করা ওষুধের মান, মেয়াদ এবং সংরক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে অভিযোগপত্রে। অভিজিৎ দাসের দাবি, পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এর আগেও সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে ওষুধ অপচয়, আর্থিক অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এবার নতুন এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই না করা পর্যন্ত এগুলি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।


