Monday, 17 August, 2026
17 August
HomeকলকাতাMamata Banerjee: বঙ্গে মমতা সরকারের ২৫০ কোটির মেগা দুর্নীতি

Mamata Banerjee: বঙ্গে মমতা সরকারের ২৫০ কোটির মেগা দুর্নীতি

তাঁর দাবি, যে প্রশাসনের অধীনে পুলিশ, আইবি এবং গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করত, সেই সরকারের আমলে এত বড় দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী কিছুই জানতেন না, এই দাবি বাংলার মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

গরু পাচার মামলার পর এ বার বীরভূমের টুলু মণ্ডল কাণ্ডেও নাম জড়াল অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের। প্রায় ২২ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে বীরভূমের বোলপুরে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সায়গলের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৮০০ গ্রাম সোনা, ১৩ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ জমির নথি উদ্ধার হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “সবাইকে ডাকো, শূয়*রের…”; বাম আমলে ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ‘মাষ্টারমশাই!’ আশিস বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের মুখের ভাষা

পুলিশ সূত্রে খবর, বীরভূমের পাথর খাদান ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে সায়গলের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ, আগের তৃণমূল সরকারের আমলে টুলু মণ্ডল দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েক দিন আগে টুলুর এক আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছিল। সেই মামলার সূত্র ধরেই সায়গলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে।

শনিবার বোলপুরের বাইপাস এলাকার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানোর সময় সোনা ও নগদের পাশাপাশি ১০০টিরও বেশি জমির নথি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। নথিগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন সায়গল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে টুলু মণ্ডলের বেআইনি কার্যকলাপে সহযোগিতা করেছিলেন সায়গল। 

এদিকে, টুলু মণ্ডল এখনও অধরা। তাঁকে সিউড়ি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিসও জারি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। গ্রেফতারি থেকে রক্ষার জন্য কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন টুলু। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করেও মামলা করেছেন তিনি। তাঁর একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে নতুন ইতিহাস; দেবীপক্ষেই হলদিয়ায় ৬,০০০ কোটি টাকার মেগা প্ল্যান্ট

সায়গল হোসেনের গ্রেফতারি নিয়ে এ বার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর প্রশ্ন, “তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিছুই জানতে না? ভাগ না পেলে কেউ চুপ করে থাকে?” তাঁর দাবি, যে প্রশাসনের অধীনে পুলিশ, আইবি এবং গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করত, সেই সরকারের আমলে এত বড় দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী কিছুই জানতেন না, এই দাবি বাংলার মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

অগ্নিমিত্রা বলেন, “আজকে অনুব্রতবাবুর বডিগার্ডের যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছে। এরপর হয়তো অনুব্রতবাবুর যোগাযোগ পাওয়া যাবে। তারপর কাজল শেখের যোগাযোগ সামনে আসবে। এর পর ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে কালীঘাটের যোগও হয়তো সামনে আসবে।”

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে অগ্নিমিত্রার আরও দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে এত বড় দুর্নীতি চললেও তিনি কিছুই জানতেন না এই বক্তব্য মেনে নেওয়া কঠিন। তাঁর কটাক্ষ, “যাঁর অধীনে পুলিশ, আইবি, গোয়েন্দা, ১৫ বছরে ২৫০ কোটির দুর্নীতি তিনি কিছুই জানতেন না, এটা বাংলার মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভাগ না পেলে কেউ চুপ করে থাকতে পারেন না।

সায়গল হোসেনের গ্রেফতারির পর টুলু মণ্ডল কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় সামনে এসেছে। টুলুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক সহযোগীকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা, সোনা ও জমির নথির সূত্র ধরে তদন্তকারীরা আর কার কার সঙ্গে এই চক্রের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন