Tuesday, 7 July, 2026
7 July
Homeদক্ষিণবঙ্গBaruipur: জমায়েত নিষিদ্ধ, ঘটনাস্থলে বিশাল বাহিনী, বারুইপুরের তিন থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা...

Baruipur: জমায়েত নিষিদ্ধ, ঘটনাস্থলে বিশাল বাহিনী, বারুইপুরের তিন থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি; পরিস্থিতি থমথমে

বারুইপুরের তিনটি থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে দিল পুলিশ। সোমবার সকাল থেকে সেখানে পরিস্থিতি থমথমে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল বারুইপুর । সোমবারও সকাল থেকেই চরম উত্তেজনা ও থমথমে ভাব বজায় রয়েছে সেখানে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা যাতে প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে না যায়, তা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর—এই তিনটি থানা এলাকায় অবিলম্বে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা (প্রাক্তন ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে।

এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট তিন থানা এলাকায় ৫ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই এলাকায় চলছে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর টহলদারি।

গত শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকা বারুইপুরের ১২ বছরের এক কিশোরীর নিথর দেহ রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে পাশবিক অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে গোটা এলাকায়। উত্তেজিত জনতা নাবালিকার দেহ রাস্তায় আটকে রেখে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

আরও পড়ুনঃ বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণে জিরো টলারেন্সের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

উত্তেজনা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, কিশোরীর খুনি সন্দেহে এক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা, যার জেরে পরে তার মৃত্যু হয়। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গেলে পুলিশের ওপরও চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে নামাতে হয় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাদের দীর্ঘক্ষণের আশ্বাসের পর রবিবার রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

বারুইপুরের এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ রবিবার রাতভর বিস্তীর্ণ এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও ৩ জনকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পুলিশ মূলত তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছে,

  • প্রথম মামলা: নাবালিকাকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে খুন করা সংক্রান্ত। (ধৃত ও আটক ব্যক্তিরা মূলত এই মামলারই অভিযুক্ত)।
  • দ্বিতীয় মামলা: আইন হাতে তুলে নিয়ে সন্দেহভাজন যুবককে পিটিয়ে মারার (গণপিটুনি) অপরাধে।
  • তৃতীয় মামলা: কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের দায়ে।

গোটা ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং খুনের আগে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের (Autopsy) রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ ‘কার্যত নজরবন্দী’ মমতা; গণপিটুনিতে নিহতের অটোতেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বারুইপুরের কিশোরীকে?

সোমবার সকাল থেকে ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন মোড়গুলিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। কোনও রকম বেআইনি জমায়েত বা উস্কানিমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার এবং সমাজমাধ্যমে ছড়ানো যে কোনও রকম গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি নতুন করে আলোড়িত হয়ে উঠেছে। রবিবারই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী মঙ্গলবার (৮ জুলাই) মৃত নাবালিকার বাবাকে কলকাতার ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে, যেখানে প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন। পাশাপাশি, এই ঘটনায় সরব হয়ে শোকগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন