কলকাতা এবং শহরতলিসহ পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা মৌসুমি অক্ষরেখার কারণে সক্রিয় হয়েছে, এবং আগামী সোমবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টি চলার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টির প্রধান কারণ ছিল বাংলাদেশের উপর অবস্থান করা একটি ঘূর্ণাবর্ত, যা এখন দুর্বল হয়ে সরে গেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ওপর এখনও মৌসুমি অক্ষরেখা এবং নিম্নচাপ রেখা সক্রিয় রয়েছে, যা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রাখবে।
ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার সম্মিলিত প্রভাবে আগামী ৪৮–৭২ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রায় সর্বত্রই দফায় দফায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গ:
পার্বত্য অঞ্চল সহ অধিকাংশ জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা আগামী তিন দিন।
দক্ষিণবঙ্গ:
কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পূর্বের জেলাগুলিতে পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। সব সময় টানা বৃষ্টি না হলেও, কোথাও কোথাও একটানা ৩–৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বৃষ্টিপাত চলতে পারে।
মনে রাখবেন, সব জেলায় সমান পরিমাণ বা সমান তীব্রতার বৃষ্টিপাত হবে না। স্থানভেদে বৃষ্টির পরিমাণ ও প্রভাবের যথেষ্ট পার্থক্য থাকতে পারে।
উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে নতুন করে বৃষ্টি বাড়তে চলেছে দফায় দফায়!
খুলনা সংলগ্ন অঞ্চলে নিম্নচাপ অক্ষরেখা জাঁকিয়ে বসা এবং মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠার ফলে আগামী কয়েক দিনে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে চলেছে।
দক্ষিণবঙ্গ:
আজ রাত থেকে আগামীকাল সকালের মধ্যে পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলী, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতেও আগামীকাল সকালের মধ্যে বৃষ্টির সূচনা হতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকবে।
উত্তরবঙ্গ:
দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ৪৮ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের সঙ্গে গতকাল সকাল ৮:৩০টা থেকে বিকেল ৫:৩০টা (IST) পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া বৃষ্টিপাত যোগ করে প্রস্তুত করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মোট বৃষ্টিপাতের তালিকা।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে মমতা-স্মৃতি রেখে, চলেই গেলেন গেলেন কেষ্ট
সর্বাধিক মোট বৃষ্টিপাত:
কোচবিহার — ১৪৪.০ মিমি
আলিপুরদুয়ার — ১১৪.২ মিমি
দমদম — ১০৩.১ মিমি বারাকপুর — ৯৭.০ মিমি
ডায়মন্ড হারবার — ৭৯.৫ মিমি
দ্রষ্টব্য:
এই তথ্য দুটি পৃথক পর্যবেক্ষণ সময়ের বৃষ্টিপাতের সমষ্টি।
“ট্রেস” (Trace) বলতে অতি সামান্য বৃষ্টিপাত বোঝায়।
সকল পরিমাপ মিলিমিটারে (mm) প্রকাশ করা হয়েছে।
বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে খোলা মাঠ, জলাশয় বা গাছের নিচে অবস্থান করবেন না। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলুন। খবরটি শেয়ার করে সকলকে জানাতে সাহায্য করুন।
বিপদমুক্ত থাকুন, বিপদমুক্ত রাখুন।


