বহরমপুরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে, যা নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সকালে একটি টাটা সুমো পুলকার রেললাইন পার হওয়ার সময় নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় চার শিশু ও এক সাইকেল আরোহী নিহত হন। একজন আহতকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি হিউম্যান এরর। গেটম্যানের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ক্ষমার অযোগ্য কাজের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গেটম্যানকে সকালেই গ্রেফতার করা হয়েছে।” তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং জানান, রেলের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও এই ধরনের মৃত্যু কখনোই পূরণীয় নয়।
শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “মুর্শিদাবাদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। যারা নিজের সন্তানকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। এই কঠিন সময়ে রাজ্য শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ বড় পদক্ষেপ রেলের! বিস্ফোরক তথ্য, গেটম্যানের গাফিলতিতেই এত বড় দুর্ঘটনা
তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রশাসন আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করছে। মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ, জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি তদারকি করছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের সেরা চিকিৎসা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।
আরও পড়ুনঃ রথের রশি ছুঁতে না পারার আক্ষেপ; পায়ের আঙুলে চক-পেন্সিল ধরে ১৫ বছর শিক্ষকতা!
দুর্ঘটনার সময় রেল গেট বন্ধ ছিল। প্রথমে হাওড়া-নবদ্বীপ এক্সপ্রেস ট্রেন পার হওয়ার পর গেটম্যান গেট খুলে দেন। গেট খোলা দেখে পুলকারটি রেললাইন পার হচ্ছিল ঠিক তখনই ট্রেন ধাক্কা দেয়। পুলকারের সঙ্গে সাইকেল আরোহীও রেললাইন পার হচ্ছিলেন, তাঁকেও ট্রেন পিষে দিয়ে যায়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে পাঁচজনই প্রাণ হারান।


