কলকাতায় বর্ষায় বাড়ছে চোখের সংক্রমণ; কনজাঙ্কটিভাইটিসের সাথে বিরল মাইক্রোস্পোরিডিয়াল সংক্রমণ
বর্ষার শুরু এবং আবহাওয়ার বারবার পরিবর্তনের কারণে কলকাতায় চোখের সংক্রমণ, বিশেষ করে কনজাঙ্কটিভাইটিস দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে প্রতিদিন চোখ লাল হওয়া, চুলকানি এবং জল পড়ার মতো উপসর্গ নিয়ে বহু রোগী আসছেন।
আরও পড়ুনঃ ধর্মতলা বিক্ষোভে হিংসায় তৃণমূল যোগের অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি সহ ১১ জন শুক্রবারী গ্রেফতার
সংক্রমণের ধরন ও কারণ:
-
ভাইরাল এবং অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিস: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস এবং সিজনাল অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিস উভয়েরই প্রকোপ বেশি।
-
মাইক্রোস্পোরিডিয়াল কেরাটোকনজাঙ্কটিভাইটিস: এর পাশাপাশি, মাইক্রোস্পোরিডিয়া নামক ছত্রাকঘটিত একটি বিরল সংক্রমণের ঘটনাও চোখে পড়ছে।
-
আবহাওয়ার প্রভাব: গত বছরগুলোর মতো অ্যাডেনোভাইরাসের চেয়ে এবার মূলত আবহাওয়ার ওঠানামা এবং মৌসুমি পরিবর্তনকেই এই সংক্রমণের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। ধুলো, পরাগরেণু এবং পোষ্য প্রাণীর লোমের কারণেও অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিস বাড়ছে।
আক্রান্ত কারা হচ্ছেন?
-
সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হলেও শিশু এবং তরুণদের মধ্যে অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিসের প্রবণতা বেশি।
-
মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হার সামান্য বেশি।
-
শিশুদের মধ্যে ‘ভার্নাল কেরাটোকনজাঙ্কটিভাইটিস’ নামক অ্যালার্জিজনিত চোখের সমস্যাও দেখা যাচ্ছে এবং স্কুল থেকেই তাদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য ও উপসর্গ:
-
ডা. সৌম্য সেনগুপ্তর মতে, এবারের ভাইরাল সংক্রমণ স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ বা সোয়াইন ফ্লু-র মতো রোগের সাথেও অনেকের কনজাঙ্কটিভাইটিস দেখা যাচ্ছে।
-
উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে: চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, জল পড়া, আঠালো স্রাব, আলোতে অসুবিধা এবং চোখে খচখচে অনুভূতি। সংক্রমণ সাধারণত এক চোখে শুরু হয়ে অন্য চোখে ছড়ায়।
আরও পড়ুনঃ বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা! জরুরি বৈঠকে মোদি-শাহ, তলব একাধিক রাজ্যের নেতাদের
সতর্কতা ও পরামর্শ:
চিকিৎসকরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
-
দূষিত জলের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
-
ভিড়ের জায়গায় কম যাওয়া।
-
বারবার চোখে হাত না দেওয়া এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
-
নিজের তোয়ালে ও ব্যক্তিগত জিনিস ব্যবহার করা।
-
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে ফার্মেসি থেকে আই ড্রপ না কিনে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। ভুল ওষুধ, বিশেষত ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে, বিপদ বাড়াতে পারে।


