দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা:
নির্বাচিত পুরবোর্ডের অনুপস্থিতির প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কলকাতা পুরসভার (KMC) কোষাগারে। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম তিন মাসে পুরসভার আয়ের প্রধান উৎস ‘সম্পত্তি কর’ (Property Tax) আদায়ের বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে মাত্র আড়াই শতাংশে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এই বৃদ্ধির হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি। রাজস্ব সংগ্রহের এই আশঙ্কাজনক ধীরগতি নিয়ে এখন চিন্তার ভাঁজ পুর প্রশাসনের কপালে।
আরও পড়ুনঃ “দেশের দায়িত্ব অন্য কেউ সামলাক, ওঁর ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া ভাল”; মোদীকে কটাক্ষ CJP প্রধান অভিজিৎ দীপকের
রাজনৈতিক পরিবর্তন ও পুরবোর্ডের অবলুপ্তি: গত মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। পরবর্তীতে ভেঙে দেওয়া হয় নির্বাচিত পুরবোর্ড। তার পর থেকেই পুরসভার সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোর হাতবদল ঘটে। পুরসভা সূত্রের দাবি, পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই সম্পত্তি কর আদায়ের গতিতে এই বড়সড় পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ যোগ্যদের দ্রুত নিয়োগ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে জলপাইগুড়িতে সরব আরওয়াইএফ-এর বিশ্বজিৎ সরকার
আর্থিক সংকট ও কারণ বিশ্লেষণ: পুরসভার দৈনন্দিন প্রশাসনিক খরচ, উন্নয়নমূলক কাজ ও পরিষেবা বজায় রাখতে সম্পত্তি করের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যয় বাড়তে থাকলেও আয়ের উৎস না বাড়ায় আর্থিক চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে রাজস্ব ঘাটতির পেছনে দুটি প্রধান দিক তুলে ধরছেন আধিকারিকরা:
-
জনবলের টানাটানি ও কাজের চাপ: রাজস্ব বিভাগের আধিকারিকদের একাংশ পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়াকে একমাত্র কারণ বলতে নারাজ। তাঁদের দাবি, সম্পত্তি কর সংগ্রাহক ও পরিদর্শকদের এক বড় অংশকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে।
-
সরেজমিন তদারকির অভাব: একই সঙ্গে একাধিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কর্মীদের ওপর চরম কাজের চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বকেয়া কর আদায়ের জন্য বাড়ি বাড়ি বা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করার মতো পর্যাপ্ত সময় মিলছে না।
এর ফলে একদিকে বকেয়া কর জমছে, অন্যদিকে থমকে যাচ্ছে কলকাতা পুরসভার সামগ্রিক রাজস্ব সংগ্রহের গতি। দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হলে আগামী দিনে পুরকর্মীদের বেতন ও নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখাও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


